তাঁর জীবনব্রত ন্যায় প্রতিষ্ঠা
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৬
৮১টি লাল গোলাপ পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তাফা কামাল। তাঁর ৮১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ৮১টি গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। শুক্রবার গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন হলে একইসঙ্গে আয়োজন করা হয় বিচারপতি মোস্তাফা কামালকে নিয়ে দেশবরেণ্য লেখকদের লেখা নিয়ে সম্পাদিত ‘চির উন্নত মম শির’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। মোস্তাফা কামালের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বইটির ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। বইটি সম্পাদনা করেছেন তাঁর বড় মেয়ে সংগীত শিল্পী নাশিদ কামাল।
ফুল ও শুভ কামনা নিয়ে মরমি শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের এই ছেলেকে শুভেচ্ছা জানাতে দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের গুণীজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজাল, সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মুহাম্মদ জমির, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিক্ষাবিদ বদরুদ্দীন উমর, কবি জাহানারা আরজু প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ, সংগীত শিল্পী সুজিত মোস্তাফা, শবনম মুশতারী, অভিনেত্রী সারা যাকের, লিমা রহমান প্রমুখ। এ সময় আব্বাসউদ্দীনের অপর দুই সন্তান মুস্তাফা জামান আব্বাসী ও ফেরদৌসী রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বিচারপতি মোস্তাফা কামালকে প্রথমে শিক্ষক, পরে আইনজীবী ও বিচারপতি হিসেবে দেখার সুযোগ হয়েছে। আইনের এমন কোনো বিভাগ নেই যেখানে মোস্তাফা কামালকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মোস্তাফা কামালের সঙ্গে ৬০ বছরের সম্পর্কে জমা হয়েছে বহু স্মৃতি। একই পরিবারের মানুষ বলা যেতে পারে আমাদের। ভালো ছাত্র হিসেবে তার যেমন সুনাম ছিল তেমনি বক্তা হিসেবেও তিনি সমধিক সমাদৃত ছিলেন।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, বয়সে তিনি আমার এক বছরের বড়। পেশাগত সম্পর্কের চেয়ে মোস্তাফা কামালের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি। পারিবারিকভাবে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে।
ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মোস্তাফা কামাল সংস্কৃতি, আইন পেশা ও বিচারকার্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠাকে তিনি জীবনব্রত হিসেবে নিয়েছেন।
চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, মোস্তাফা কামাল অনেক বড় মাপের মানুষ। তাঁর অসাধারণ বক্তৃতা দেয়ার ক্ষমতা মানুষকে মোহিত করে।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি বিচারপতি মোস্তাফা কামাল বলেন, বিচারকরা নিভৃতে তাঁদের কাজ করে যান। যে অর্থে লেখক বা সংগীত শিল্পীরা জনপ্রিয়, বিচারপতিরা তেমন জনপ্রিয় নন। বিদেশে তাঁদের জীবন ও কাজ সবার সামনে নিয়ে আসতে অবসরে যাওয়ার পরপরই বহু বই প্রকাশিত হয়। আমার ক্ষেত্রে সেটি হবে, সে প্রত্যাশা ছিল না| এখন কেবল একটাই প্রার্থনা, শেষদিন পর্যন্ত সম্মান ও ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
চির উন্নত মম শির বইটিতে স্থান পেয়েছে তাঁর ওপর লেখা ৩১টি বাংলা ও ইংরেজি প্রবন্ধ। সঙ্গে আছে তাঁর পারিবারিক ও কর্মজীবনের বিভিন্ন ছবি। আছে তাঁর একটি সাক্ষাত্কারও। ২২২ পৃষ্ঠার এ বইটি প্রকাশ করেছে প্রোব পাবলিশার্স।