কক্সবাজারে বীচ রোডে জলাবদ্ধতা পর্যটকদের চরম ভোগান্তি
আহমেদ গিয়াস, কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩০
কক্সবাজার শহরের সমুদ্র তীরবর্তী অভিজাত এলাকা বীচ রোডে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে পর্যটকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত প্রায় ৪ বছর ধরে সী-গাল হোটেল সংলগ্ন এ রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে থাকছে।
কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে সী-ইন পয়েন্ট পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাটি শহরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত। এ এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসেন। কক্সবাজারের প্রায় অভিজাত হোটেল ও রেস্টহাউসসমূহের বেশিরভাগ এ এলাকাতেই অবস্থিত। কিন্তু হোটেল-মোটেল জোনে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে আছে বীচ রোডে। এর ফলে সাগর তীরের এ সড়কে পর্যটকদের চলাচল একদিকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ঘুর পথে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এ সড়কে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে ডুবে থাকা এসব গর্তে পড়ে রিকশা উল্টে প্রতিদিন অনেকেই আহত হচ্ছেন। এ সড়কেই রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেল সী-গাল, আর্মি ও বিজিবি’র রেস্টহাউসসহ ডজনখানেক অভিজাত হোটেল। এসব রেস্টহাউস ও তারকা হোটেলে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার উপর দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় সাম্প্রতিককালে অনেকেই এলাকাটি এড়িয়ে চলছেন।
কক্সবাজার সাগর তীরের পাঁচ তারকা হোটেল সী-গালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল ইসলাম ছিদ্দিকী রুমী জানান, গত প্রায় ৪ বছর ধরে এ রোডে পানি জমে আছে। এমনকি শীতকালেও হোটেল-মোটেলের ময়লা পানি এসে এ সড়কে জমে থাকে। যার ফলে সাগর তীরের হোটেলসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান, সাগর তীরের এ প্রধান সড়কটিতে জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাচল অনুপযোগী থাকায় পর্যটকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি জানান, পানি জমে থাকার কারণে রাস্তা ভেঙ্গে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রিকশারোহী অনেক পর্যটক গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। কক্সবাজার সী-বীচ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নুরুল আবছার জানান, শহরের সবচেয়ে অভিজাত এলাকা হলেও হোটেল-মোটেল জোনে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ফলে নিচু এলাকায় পানি জমে রাস্তা-ঘাটও তলিয়ে যাচ্ছে। এ সংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনেক আবেদন-নিবেদন করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, ওই এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা দরকার। অথচ ৩২ বর্গ কিলোমিটারের এ পৌরসভার জন্য বার্ষিক সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৭০ লাখ টাকা। এরপরও পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ধীরে ধীরে ওই এলাকার উন্নয়ন করবেন বলে তিনি জানান।