বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অর্ধশত আহত বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট

দেশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলাসহ অর্ধশত লোক আহত এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। সেনবাগে বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পাইখাস্তা ও অশ্বদিয়া গ্রামবাসীর মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বসতঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষে অন্তত ১০জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাইখাস্তা গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসুদাই গ্রামের এক যুবক। গতিবিধি সন্দেহ হলে গ্রামের লোকজন ছেলেটিকে ধরে স্থানীয় রুহুল আমিনের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং মারধর করে ছেড়ে দেয়। এরপর অশ্বদিয়া গ্রামের লোকজন পাইখাস্তা গ্রামে হামলা চারটি বাড়ির বেশ কয়েকটি বসত ভাংচুর ও লুটপাট করে। জগন্নাথপুরে পৃথক ২টি ঘটনায় আহত ২৫ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সন্ত্রাসী হামলায় পিতা-পুত্রসহ তিনজন ও ড্রেনের পানি নিস্কাশন নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে ২২ জন আহত হয়েছেন। জানা যায়, পৌর শহরের শেরপুর গ্রামের সমাজসেবক গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী ছোট মিয়া এলাকার দুঃস্থদের মধ্যে সাহায্যের টাকা বিতরণকালে একই এলাকার কুটি মিয়ার পুত্র নজরুল মিয়ার নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একদল সন্ত্রাসী গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী ছোট মিয়া ও তার পুত্র উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা গোলাম আরাফাত চৌধুরী তোহা ও গোলাম সারোয়ার চৌধুরী খাজাকে রামদা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী ছোট মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর গ্রামে ড্রেনের পানি নিস্কাশন নিয়ে লিলু মিয়ার পক্ষের লোকজনদের সঙ্গে একই গ্রামের আনসার মিয়ার বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২২জন আহত হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদারগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের তারতাপাড়া মোড়ে গতকাল শনিবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, তার এক আত্মীয়ের শিশু সন্তানকে মারধরের বিচার চাইতে গেলে ঐ এলাকার নায়েব আলী, জাহাঙ্গীর, বিদ্যুত্সহ প্রায় ৫০ জন লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। ভয়ে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে উত্তেজিত লোকজন বাড়ি সংলগ্ন দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় তারা নগদ টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। তালতলীতে পৃথক সংঘর্ষে ১২ জন আহত বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রা বাজার ও তেতুলবাড়ীয়া গ্রামে শনিবার পৃথক দু’টি সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। মুমূুর্ষ অবস্থায় ৪ জনকে বরগুনা ও পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার সকালে নিদ্রা বাজারের স-মিল এলাকায় মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বেলায়েত ফরাজী ও শাহজাহান মোল্লার লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহত দুলাল ফরাজী ও বাবুল ফরাজীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে একই দিন তেতুলবাড়ীয়া লঞ্চঘাটে লঞ্চের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে অংকুজান পাড়ার হিরু গাজী গৃহবধূ নাসিমাকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার রেশ ধরে স্বামী বাচ্চু হাওলাদার ও হিরু গাজীর সাথে লঞ্চের মধ্যেই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালতলী বাজারেও দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে বাচ্চু হাওলাদারের পক্ষের সাতজন আহত হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা ও পালটা মামলা হয়েছে।