পশ্চিম জোনের সব রেলক্রসিং যেন মরণ ফাঁদ
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪১
রেলের পশ্চিম জোনের ১৫শ’ কিলোমিটার রেলপথে স্বীকৃত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা মাত্র ২২১টি। দুইজন করে গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য মাঝে মাঝেই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বাকি ১০২৮টি রেলক্রসিংই রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির বাইরে। সব মিলিয়ে একেকটি রেলক্রসিং পরিণত হয়েছে একেকটি মরণ ফাঁদে।
রেলের পশ্চিম জোনের ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম জোনের ১২৪৯টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে গেটম্যান আছে ২শ’ ২১টিতে। গেটম্যান বিহীন ক্রসিং আছে ৭শ’ ৫৭টি। আর একেবারে অবৈধ রেলক্রসিং এর সংখ্যা ২শ’ ৭১টি। সব মিলিয়ে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ১০২৮টি।
অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে কোন গেটম্যান থাকে না। গেটম্যানবিহীন রেলক্রসিংয়ের দুই পাশে দুইটি সাইন বোর্ড টানিয়ে দায় সারে রেল কর্তৃপক্ষ। সাইন বোর্ডে সতর্ক বার্তা লেখা থাকে ‘এ ক্রসিং এ কোন গেট বা গেটম্যান নেই। দেখে শুনে রেললাইন পার হবেন। গেটম্যান বিহীন রেলক্রসিং পথচারী বা যানবাহন নিজ দায়িত্বে পারাপার করবেন। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে রেল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। কোন ক্ষতিপূরণও দিবে না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে এমন দায়সারা সাইন বোর্ড টানিয়ে কোন রকম দায়িত্ব পালন করে। তবে কোন কোন স্বীকৃত রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকার পরেও শুধুমাত্র গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা আর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। স্বীকৃত ক্রসিংগুলোতে গেটম্যান থাকে। ট্রেন আসার আগে গেট বন্ধ করা আর ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেট খুলে দেয়ার কথা। কিন্তু সম্প্রতি ঝিনাইদহের বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে দুইজন গেটম্যান থাকার পরও শুধুমাত্র তাদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য শুক্রবার ভোরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় জীবন দিতে হয়েছে ১১ জনকে। এদিন বরযাত্রীবাহী একটি বাসের সাথে ট্রেনের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও অন্তত ৬০ জন আহত হন। এর আগে ১৯৯৮ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বৈধ রেলক্রসিংয়েও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। তখন ট্রেনের সাথে একটি নৈশ কোচের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার পর মামলা হয়। তদন্ত কমিটি হয়। তদন্তে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যানবাহন চালককে দায়ী করা হয়ে থাকে। আইনে বলা আছে, গাড়ি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় গেটে এসে থামতে হবে। পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সাথে রেললাইন পার হতে হবে। এভাবে রেললাইন পার হলে দুর্ঘটনা ঘটবে না। অবৈধ রেলক্রসিং নামের মরণ ফাঁদগুলোর কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় না। যতদিন যাচ্ছে রেলক্রসিং-এর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। রেললাইনের উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে হলে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে। গেটম্যানের ৮ বছরের বেতন ও অবকাঠামোর নির্মাণের খরচ দিতে হয়। বেশির ক্ষেত্রেই সেটা মানা হয় না। আর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ সব ক্রসিংকে অবৈধ ঘোষণা করে থাকে। এলজিইডি’র রাস্তার কারণে বেশি সংখ্যায় রেলক্রসিং সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার জন্যও ক্রসিং তৈরি হচ্ছে।
এসব বিষয়ে রেলের পশ্চিম জোনের জেনারেল ম্যানেজার আবু আওয়াল ভুঁইয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মামলার কারণে রিক্রুটিং বন্ধ রয়েছে। একারণে রেলক্রসিংগুলোতে গেটম্যানের সংকট রয়েছে। রেলক্রসিং উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।