ঝিনাইদহের ফুলহরি গ্রামে শোকের মাতম

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রাম জুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে। বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১১ জনের ৫ জন এই গ্রামের। এদিকে বিয়ে বাড়িতে চলছে আহাজারি। স্বজন হারানোর ব্যথায় নববধূ জোত্স্না বিশ্বাস বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। কনের বাড়িতে বৌভাতের আনন্দের পরিবর্তে চলছে শোক। কালীগঞ্জ উপজেলার সাঁকো গ্রামের মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা জোত্স্নার সাথে ফুলহরি গ্রামের স্কুল শিক্ষক তাপস কুমারের বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ে হয়। দুর্ঘটনায় নিহতদের কেউ কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। শোভন দে পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। ফ্যাশন ডিজাইনের উপর পড়াশুনা শেষ করেছেন। সন্তান হারিয়ে বাবা-মা পাগলপ্রায়। বার বার মূর্ছা যাওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বিপ্লব কুমার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। কয়েক বছর আগে বড় ভাই লক্ষ্মণ বিশ্বাস ক্যান্সারে মারা গেছেন। সংসারে বৃদ্ধা মা বিজলী রানী ও ভাইজী রূপা আছে। এ পরিবারের দেখার কেউ থাকল না। সুজয় সাহা মিষ্টি তৈরি করে সংসার চালাতেন। তিনি সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার অকালমৃত্যু পরিবারটিকে পথে বসিয়েছে। একইভাবে অলোক কুন্ডুর মর্মান্তিক মৃত্যু সুধির কুন্ডুর পরিবারের সব আশা ভরসা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে।