ঢাকামুখী মানুষের দুর্ভোগ, টিকিটের দাম দ্বিগুণ

ঈদের ছুটি কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। তবে বাস কাউন্টারগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে মানুষ। কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে বাসের টিকিট নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ টাকা গুণলেই কেবল মিলছে টিকিট। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে লঞ্চে ঢাকাগামী যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পথে নামছেন সাধারণ মানুষ। খবর ইত্তেফাকের জেলা অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। রংপুর অফিস জানায়, রংপুর অঞ্চলের ঈদ ফেরত মানুষকে কর্মস্থলে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাসের টিকিটের প্রকাশ্যে কালোবাজারিতে অতিষ্ঠ যাত্রী সাধারণ। নির্ধারিত দিনের একটি আসন পেতে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা। বিশেষ করে নগরের এরশাদ ব্রিজ কামারপাড়া ঢাকা বাস টার্মিনালে এ চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট প্রকাশ্যেই এই কালোবাজারি করছে। অথচ প্রশাসনিক ভাবে এদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা এখানে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়নি। কাউন্টার ম্যানেজাররা সিন্ডিকেট করে কালোবাজারিদের কাছে টিকিট তুলে দেয়ায় ৬শ’ টাকার টিকেট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। এদিকে প্রতিদিন র্যাব ও পুলিশের উপস্থিতি এবং নজরদারিতে রেলের টিকেট বিক্রি হওয়ায় কালোবাজারিরা সুবিধা করতে পারেনি। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়ার ধকল সয়ে অসহনীয় ভোগান্তির মধ্যেই তারা গন্তব্যে ছুটে চলছেন। যানবাহনের অভাব না থাকলেও ভাড়া চোখ কপালে ওঠার মতো। যাত্রীদেরও এ ভাড়া গুণতে হচ্ছে নিতান্ত বাধ্য হয়েই। ভাড়া নিয়ে অনেক যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শাসনগাছা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা-ঢাকা সড়ক পথে যাত্রীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে এটা রীতিমত চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, ঈদ পেরিয়ে গেলেও পঞ্চগড়ে ঢাকাগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ কমছে না। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য চরম দুর্ভোগে পড়েছে তারা। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও একটি টিকেট মিলছে না। পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের কোচ কাউন্টাগুলো ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ কাউন্টার খোলা থাকলেও সেখানে কেউ নেই। এক হাজার টাকা দিয়েও ৬শ’ টাকার টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বাবুগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসগুলোতে নেই টিকিট। একই অবস্থা নৌ-পথের যাত্রীদের। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোন অভিযোগ দিলেও তা কোন কাজে আসেনি। এছাড়া পর্যাপ্ত লঞ্চ না থাকায় লঞ্চগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, মঠবাড়িয়া থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা বাস, লঞ্চ ও স্টিমারের টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের টিকেট কাউন্টারের বুকিং ম্যানেজাররা টিকিট নিজেদের নামে বুকিং করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে বলে তারা বিপাকে পড়েছেন। কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, কাউখালী থেকে ঢাকার কর্মস্থলে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। লঞ্চ-বাস ধারণের ঠাঁই নেই। লঞ্চঘাট, স্টিমার ঘাট, বাস স্টেশনে এখনও যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টিকিট মিলছে না। অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় পরিবহন মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া। টিপু-০, রনদূত প্লাস, অগ্রদুত প্লাস, টিপু-১ ও পুবালী-১ লঞ্চে তিল ধারণের জায়গা নেই। স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, স্বরূপকাঠি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা বাসের টিকিট পাচ্ছে না। লঞ্চের কেবিনের টিকেটও যেন সোনার হরিণ। পর্যাপ্ত লঞ্চ না থাকায় লঞ্চগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে যাতায়াত করতে হচ্ছে অনেক যাত্রীকে। লঞ্চগুলো ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী পরিবহন করলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চে ও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।