‘গ্রন্থকেন্দ্রের দুর্বলতা কাটিয়ে গড়তে হবে বইপড়া সংস্কৃতি’

সারাদেশে সৃজনশীল সমাজ গঠনে পাড়া-মহল্লা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠাগার নির্মাণ ও সেসব পাঠাগারকে পাঠকবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে যুগোপযোগী কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবার বিকল্প নেই। বইমেলা আয়োজন করলেই মননশীল পাঠক সৃষ্টি হবে না। বই পাঠের সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে হবে। তাই সৃজনশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বাড়াতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন আলোচকরা। তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল পাল এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য আসাদ মান্নান। ভারপ্রাপ্ত সংস্কৃতি সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণি, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্সের প্রকাশক কামরুল হাসান শায়কসহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশকবৃন্দ।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মননশীল মানুষ তৈরিতে বইয়ের বিকল্প নেই। অথচ ক্রমশ পাড়া-মহল্লায় কমছে পাঠাগার। উল্টোদিকে আবার ভালো বইয়ের সংখ্যাও কমছে। এমন  প্রেক্ষাপটে ভালো বইগুলো বাছাই করে পাঠাতে হবে বিভিন্ন সরকারি লাইব্রেরিতে। এমন বহুমুখী চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে দুর্বলতা কাটিয়ে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে। প্রতিষ্ঠানটি পরিপূর্ণভাবে সচল করতে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে।

শ্যামল পাল বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠাগার গড়ে তোলার মাধ্যমে বইকে ছড়িয়ে দিতে হবে সকলের মাঝে।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, একসময় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার ছিল। এখন সেটা নেই। শুধু তাই নয়, গ্রন্থকেন্দ্রের অধীন সারাদেশে দুই হাজার গ্রন্থসুহূদ সমিতি ছিল। সেগুলো এখন নেই। এই সুহূদ সমিতিকে পুনরায় উজ্জীবিত করতে হবে। 

ফরিদ আহমেদ বলেন, গ্রন্থকেন্দ্রকে অধিদপ্তরে উন্নীত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে। পাঠচক্রসহ নিজস্ব কর্মসূচি থাকতে হবে। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশের এক হাজার পাঠাগারে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কর্নার গড়ে তুলতে হবে। 

আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, গ্রন্থকেন্দ্রের পথচলায় যেসব সমস্যা ও অদক্ষতার কথা উঠে এসেছে, তার কোনোটার সঙ্গেই দ্বিমত পোষণ করছি না। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিতে হবে গ্রন্থকেন্দ্রকে।