কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ না হলে কঠোর হবে পুলিশ

বিএনপি আন্দোলনের নামে পরিস্থতিকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জানমালের ক্ষতি, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করলে প্রশাসন চুপ করে বসে থাকবে না। বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। আর আন্দোলন নিয়ে একাধিক নেতা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেও হুমকি দিচ্ছেন। একজন বলছেন, কুচকাওয়াজ করবেন, আরেকজন বলেছেন, যুদ্ধ করবেন। তবে আমি বলবো, কুচকাওয়াজ করেন, ঢোল বাজান, বাঁশি বাজান, তা ঘরে বসেই বাজান। এতে কেউ আপনাদের কোন ধরনের বাধা দেবে না। বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদকের কাছে এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামাল। অপরদিকে একই প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কশিনার মনিরুল ইসলাম কোন রাজনৈতিক দলের নাম না উল্লেখ করে বলেন, কোন দল বা সংগঠন কোন কর্মসচি যদি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে সেক্ষেত্রে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে; কিন্তু কর্মসূচির নামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা কোন ধরনের নাশকতার চেষ্টা করা হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা যা করণীয় তাই করবে। যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ঢাকা মেট্রোপিলটন পুলিশের কঠোর নজরদারীর কারণেই রমজান ও ঈদুল ফিতর শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পেরেছেন নগরবাসী। পাশাপাশি রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় রয়েছে ভাল। এ অবস্থা ধরে রাখতেই ডিএমপি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রমজানের আগে যেভাবে দায়িত্ব পালনে পুলিশকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, ঠিক একই নির্দেশনায় পুলিশ আবার নতুন করে কাজ শুরু করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, রমজান ও ঈদের সময় পুলিশ যানজট, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, বিপণি বিতান, বড় বড় শপিং মলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল। ফলে অবৈধ অস্ত্র, মাদক দ্রব্য উদ্ধারে তেমন একটা মনোনিবেশ করতে পারেনি। তবে গতকাল শনিবার থেকে পুলিশ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য উদ্ধারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি বোমাবাজ, সন্ত্রাসী, বিশেষ করে বিগত সময় যারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরও ধরতে থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। অন্য দিকে বিভিন্ন সময় বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতা সংক্রান্ত মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছিল, তাদের মধ্যে কারা কারা জামিনে মুক্তি পেয়েছে, কারা জেলখানায় রয়েছে সে ব্যাপারে তৈরি করা হচ্ছে তালিকা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) ছানেয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় বোমা ফাটিয়ে যারা নাশকতার সৃষ্টি করেছিল, তাদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। তাছাড়া বোমাবাজরা যেসব স্থান থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করে সেসব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের অভিযান সম্পর্কে যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক দ্রব্য উদ্ধার কোন বিশেষ অভিযান নয়। এটা পুলিশের রুটিন কাজেরই অংশ। তবে সময়ের প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কিছু কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এ বছর রমজানের শুরুতে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এটাও পুলিশের একটি কৌশল। আর এ কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কিছু ঘটেনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণীবিতানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মনিরুল ইসলাম বেশ কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, অতীতে দেখা গেছে ঈদের ছুটিতে বন্ধ মার্কেট বা বিপণীবিতানের তালা ভেঙ্গে ও দেয়াল কেটে স্বর্ণের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু এ বছর কৌশল পরিবর্তনের কারণেই কোন চুরি ঘটনা ঘটেনি।