রংপুরে সাংবাদিক পেটানোয় দুই কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৮
পথচারীকে মারধরের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করায় রংপুরে পুলিশ কর্তৃক ৩ সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনায় ২ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১২ জনকে শো-কজ নোটিস দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে রংপুর পুলিশ লাইনে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ লাইনে যাই এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত কনস্টেবল সুমন ও ফরহাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কর্তব্যে অবহেলার কারণে পুলিশ লাইনের হাবিলদার, মেজর, সুবেদার, মেসের ইনচার্জসহ ১২ জনকে শো-কজ নোটিস দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিসির বাংলোর সকল গার্ডকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলোর মহানগর প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ হারুন, দৈনিক দাবানলের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শরিফুল ইসলাম সুমন ও মহানগর প্রতিবেদক মিয়া মোহাম্মদ সোহেল সংবাদ সংগ্রহ শেষে বুড়িরহাট থেকে ফিরছিলেন। তখন তারা দেখতে পান রংপুর টাউন হলের সামনে সিভিল পোশাকের ১৫/২০ জন পুলিশ এক যুবককে বেধড়ক মারপিট করছে। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে মারধরকারী পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে।
এ সময় তারা নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড প্রদর্শন করলে পুলিশ সদস্যরা ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ছবিগুলো মুছে দেয় এবং তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে মারপিট শুরু করে ও ক্যামেরা এবং নোটপ্যাড ভেঙ্গে ফেলে। পরে মারপিটের শিকার ঐ ৩ সাংবাদিককে উদ্ধার করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়।