জোকস
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২০:১৯
শহরতলীর ছোট্ট একটা এলাকা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাত্ করেই নিরিবিলিতে বসে থাকা তিন পেয়ে একটা মুরগির দিকে চোখ পড়লো শফিক সাহেবের। প্রথমে বিষয়টাকে দেখার ভুল ভাবলেও বেশ কয়েকবার চোখ কচলে তাকিয়েও যখন দেখলেন যে মুরগিটির আসলেই তিন পা তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে যেভাবেই হোক মুরগিটা তার ধরতে হবে। তবে দশ মিনিটের টানা চেষ্টাতেও সফল না হয়ে তিনি বেশ ভালোই বুঝতে পারলেন যে তিন পেয়ে এই মুরগি ধরাটা মোটেও কোনো মানুষের কম্ম নয়। কারণ তিন পায়ের শক্তিতে মুরগিটি আক্ষরিক অর্থেই ঝড়ের বেগে পালিয়ে যেতে পারে। সবমিলিয়ে হতাশ হয়ে যখন শফিক সাহেব খানিকটা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখনই তার পেছন থেকে কে যেন বলে উঠলেন ‘চেষ্টা করে লাভ নেই। আমি তিন মাস ধরে পারছি না, আর আপনি কি না দশ মিনিটেই ধরতে চান।’ হকচকিয়ে উঠে শফিক সাহেব জানতে চাইলেন, ‘কিন্তু, আপনি কে?’
‘আমি এই পোল্ট্রি ফার্মটির মালিক। আর যে মুরগিটি আপনি এতোক্ষণ ধরার চেষ্টা করছিলেন ওটা আমারই আবিস্কার।’ জানালেন ভদ্রলোক।
‘কিন্তু এত কিছু থাকতে আপনি তিন পেয়ে মুরগি কেনই বা তৈরি করলেন আর কীভাবেই বা করলেন?’ জানতে চাইলেন শফিক সাহেব।
উত্তরে ভদ্রলোক জানালেন, ‘খাবার টেবিলে বসে মুরগির রান কে খাবে সে নিয়ে আমাদের বাসায় প্রায়ই ঝগড়া লেগে যেত। আমি যেমন মুরগির রান খেতে চাইতাম তেমনি আমার স্ত্রী আর বড় ছেলেও রান ছাড়া অন্য কোনো টুকরো প্লেটে নিতে চাইতো না। তাই অনেক গবেষণা করে আর খেটেখুটে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে তিন পেয়ে এই মুরগিটা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু বিধি বাম। মুরগিটা ঠিক ঠাক মতো বড় হলো ঠিকই, তবে তিন পেয়ে মুরগির স্বাদ কেমন সেটা আর জানা হলো না। যতবারই ব্যাটাকে ধরতে যাই, ততবারই তিন পা দিয়ে এমন ছুট দেয় যে এখন এ ধরনের মুরগি কীভাবে ধরতে হয় সেটা নিয়েই গবেষণা করছি!’