ফুটবলারদের বাফুফে সভাপতির হুঁশিয়ারি

ফুটবলারদের কারো কারো আচরণে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। তিনি এ জন্য সামগ্রিকভাবে ফুটবলারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন শতভাগ দিতে না পারলে যেন তারা খেলা ছেড়ে দেয়। এশিয়ান গেমসের ফুটবলের প্রস্তুতির জন্য আবাসিক ক্যাম্পে যোগ দেয়ার আগে প্রাথমিকভাবে ডাক পাওয়া ২৫ জন খেলোয়াড়ের গতকাল রবিবার দুপুরে দলের ম্যানেজারের কাছে রিপোর্ট করার কথা ছিলো। খেলোয়াড়দের মধ্যে ২৩ জন রিপোর্ট করলেও আসেননি জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ও ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভুঁইয়া। ফুটবলারদের এহেন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শতভাগ না দিতে পারলে খেলা ছেড়ে দাও।’ কাজী সালাউদ্দিন গতকাল এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেনলে ফুটবলারদের সামনেই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি তোমাদের ভাল খবর শোনাতে আসিনি। আমি খারাপ সংবাদ দিতে এসেছি। তোমরা চাইলে ভাল খবর দিতে পার। তোমরা তোমাদের শতভাগ দাও, নয়তো চলে যাও। আমি তোমাদের এটা বলছি না যে, এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। আমি তোমাদের শতভাগ খেলাটা আশা করছি।’ দু’দিন আগে চাচা মারা যাওয়ায় কাল রিপোর্ট করতে আসেননি মামুনুল ইসলাম। অপরদিকে জামাল ভুঁইয়ার ঢাকায় এসে রিপোর্ট না করার কারণ জানা নেই বাফুফের। খেলোয়াড়দ্বয় না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশীয় ফুটবলের প্রধান বলেন, ‘চাচা মারা যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে মামুনুল রিপোর্ট করতে আসেনি। এটা কানো কারণ হতে পারে না। মনে রাখতে হবে এটা জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প।’ নিজের ফুটবল জীবনের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালে আমার বাবা মারা যান, আমি আমার বাবার জানাজা শেষে পোশাক পরিবর্তন করে অনুশীলনে যোগ দিয়েছি। এ ঘটনা সবাই জানে। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে তোমরা দেশের জন্য খেলছ। এদেশের ফুটবল তোমাদেরই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য শতভাগ দাও।’ নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদাহরণ টেনে এদেশের ফুটবলের একসময়ের সেরা স্ট্রাইকার বলেন, ‘সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ফুটবলাররা আমার কাছে যা চেয়েছে আমি তাদের তাই দিতে চেষ্টা করেছি। যাওয়ার আগের দিন খেলোয়াড়দের পকেটমানি হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা ছিল। টাকার পরিমাণ কম থাকায় তাদের পাঁচ হাজার করে দিতে বলেছিলাম আমি। পরে নেপাল গিয়ে বাকি টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক ফুটবলারই পাঁচ হাজার টাকা নিতে রাজি হয়নি, টাকা ফেলে তারা চলে গেছে। তখনই আমি বলেছিলাম এই দলের কোনো রেজাল্ট হবে না। কি লাভ হয়েছে তাদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে? অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম আমি। আমি আবারও বলছি, যদি শতভাগ দিতে পার তাহলে খেল; না হলে খেলার দরকার নেই। অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অজুহাত দেখিয়ে চলে যাও।’ এদিকে আসন্ন এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিজেদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য আমরা ৪৫ দিন সময় পাব। অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে। এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। এ দলটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না। সভাপতি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শতভাগ চেয়েছেন। আমিও এটাই চাচ্ছি। এ দেশের ফুটবল একটা ছোট কর্নারে রয়েছে। এখান থেকে বের হতে চাচ্ছি। এটা সুযোগ নিজেদের প্রমাণের। এশিয়ান গেমসে ভাল একটা ফল আমি আশা করছি।’ ড্র হলো প্রস্তুতি ম্যাচ স্পোর্টস রিপোর্টার এশিয়ান গেমসের জন্য ডাকা প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া অনূর্ধ্ব ২৩ বয়সী খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া লাল ও সবুজ দলের প্রস্তুতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ২৫ মিনিটে গোল করে সবুজ দলকে এগিয়ে দেন ইউসুফ সিফাত। ৫২ মিনিটে সমতা ফেরান লাল দলের জুয়েল রানা। খেলাটির পরই ফুটবলাররা বিকেএসপি’র ক্যাম্পে চলে যান। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার ইঞ্চিয়নে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ১৭তম এশিয়ান গেমসে নিয়ম অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ২৩ বাংলাদেশ ফুটবল দল অংশ নেবে।