পদ্মায় ভাঙন : হুমকিতে পবা’র বিস্তীর্ণ এলাকা
মোঃ আনিছুর রহমান, পবা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩২
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর পবা উপজেলার তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। হঠাত্ করে পাহাড়ি ঢলে পদ্মা উত্তাল হতে শুরু করেছে। স্রোতের তীব্রতায় এরই মধ্যে সোনাইকান্দি, বুলনপুর ও নবগঙ্গায় দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। গত ১ সপ্তাহে গ্রামগুলোর ব্যাপক এলাকা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় পদ্মাপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই গ্রামগুলো ঘরবাড়ী পদ্মায় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবেন বলে পাউবো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হঠাত্ করে পদ্মা স্বরূপে ফিরেছে। ভেঙ্গে নিয়ে গেছে অনেক কিছু। দু’পাড়ের অগণিত মানুষ হয়েছে ভিটাছাড়া বাস্তুহারা। ক্ষেতের জমি, ফলের বাগান পদ্মারগর্ভে বিলিন হয়েছে। নদী ভাঙ্গা মানুষ আশ্রয় নিয়েছে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে। হরিপুর ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বাদল জানান, সোনাইকান্দি, বুলনপুর ও নবগঙ্গায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল বলেন, গ্রাম রক্ষা করতে এখনই পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। পদ্মার ওপারে পাউবো কিছু পদক্ষেপ নিলেও এপারে তেমন কোন যুত্সই উদ্যোগ নেয়নি। এ ব্যাপারে রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, এখনো এপারের ভাঙ্গন এলাকায় কোন কিছু করা হয়নি। তবে জিও ব্যাগ ফেলার টেন্ডার দেয়া আছে। খুব দ্রুত ঠিকাদার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, পদ্মার গতি পরিবর্তন হচ্ছে এটা সত্য। পদ্মার ভাঙন এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে আর অল্প জায়গা বাকি আছে। ভাঙতে ভাঙতে গিয়ে যদি ভারতের সীমান্তে গিয়ে ঠেকে যায় তাহলে পদ্মার ওপরে ঐ অংশে বাংলাদেশ তার একক অধিকার হারাবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। ভাঙন রোধে পদ্মায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৭৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, নদীর তীর প্রতিরক্ষায় ৪ কি:মি: দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের শেষ প্রক্রিয়ায় আছে।