সৈয়দপুরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩২
সৈয়দপুর তথা হোটা নীলফামারী জেলায় দাপটের সাথে চলছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল। আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে এসব চলাচল করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। সরকারি বেসরকারি দপ্তরের লোকজনসহ সাংবাদিক পরিচয় দানকারীরাও লাইসেন্স বিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
জানা যায়, অনটেস্ট, এএফআর বা প্রেস লিখে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল সৈয়দপুর তথা সারা নীলফামারী জেলায় চলছে বছরের পর বছর। এ ধরনের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যবসায়ীসহ সাংবাদিক পরিচয়দানকারীর সংখ্যাই বেশি। ফলে ঘুষ গ্রহণকারী পুলিশের পক্ষে ওইসব মোটরসাইকেল জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন, পুলিশেরই একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যেসব ব্যবসায়ী অনটেস্ট বা এএফআর লিখে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন তাদের অনেকেরই রয়েছে অবৈধ ব্যবসা। অবৈধ ওইসব ব্যবসায়ীর সাথে বেশকিছু পুলিশ কর্মকর্তার আঁতাত রয়েছে বলে তাদের মোটরসাইকেল আটক করা সম্ভব হয় না এবং সাংবাদিক পরিচয় দানকারীদের মোটরসাইকেল আটক করলে যদি ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এজন্যই ওইসব মোটরসাইকেল তারা দেখেও দেখেন না। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ জানান, নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ অপরাধী চক্র নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল চালিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে।
সৈয়দপুর তথা নীলফামারী জেলার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, সাধারণত ছিনতাই, সড়কে ডাকাতি, লুটপাটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয়ে থাকে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল। একারণেই মোটরসাইকেল কেনার সময়ই লাইসেন্স করার জন্য বলা হয় মোটরসাইকেল ক্রেতাকে। ওই সমস্ত কর্মকর্তা বলেন, এ জেলায় প্রেস লিখে যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন তাদের ২৫ ভাগ হলো বৈধ সাংবাদিক এবং ৭৫ ভাগই অবৈধ। শুধুমাত্র প্রেস লিখে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজি করাই ভুয়া সাংবাদিকদের মূল লক্ষ্য। এ কারণে একদিকে যেমন প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি মানুষের সম্মানবোধ কমে যাচ্ছে।
নীলফামারী জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ধরতে অল্পদিনের মধ্যেই অভিযান চালানো হবে।