সংগ্রাম সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে রুল
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:০৮
মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২০ আগস্ট তাদেরকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। গতকাল রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে; কিন্তু এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় দুই জনের সাক্ষাত্কার ছাপা হয়েছে। সাক্ষাত্কারে তারা দাবি করেছেন, এটিএম আজহার একাত্তরে রংপুরে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মামলা চলাকালে আসামির বিষয়ে কোনো ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। এজন্য দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, পত্রিকাটির রংপুর প্রতিনিধি এবং ঐ দুই সাক্ষাত্কার প্রদানকারীকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
গতকাল আজহারুল ইসলামের মামলায় সাফাই সাক্ষীর সক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিলো। একমাত্র সাফাই সাক্ষী আনোয়ারুল হক বলেন, এটিএম আহজার ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) ও ১৯৭৭ সালে মাস্টার্স পাস করেন। আজহারের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন সনদের ফটোকপিসহ অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণও তিনি আদালতে উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে ‘একাত্তর সালে আজহার নামে কোনো রাজাকার কমান্ডারের নাম শুনিনি’ এবং ‘১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত রংপুর কারমাইকেল কলেজে আজহার নামে কোনো ছাত্রনেতা ছিলেন না’ শিরোনামে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত দুইটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দুইটি প্রকাশিত হয়। এ সময় প্রতিবেদন দুইটি গ্রহণ না করতে ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম।
পরে ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, বিচার চলাকালীন মামলা সম্পর্কে কোনো ধরনের মন্তব্য করা যায় না। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর; কিন্তু একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তার পরের দিন ২৭ ডিসেম্বর। তাই এই প্রতিবেদন আদালত প্রদর্শনী হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। বরং বিচার চলাকালে কেন তারা বক্তব্য দিয়েছেন তা জানতে আমরা রুল ইস্যু করছি। ২০ আগস্ট তাদের হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।