আগামী এক মাস টেলিভিশন চ্যানেলের কোনো বিতর্ক অনুষ্ঠানে দলের কোনো প্রতিনিধি বা মুখপাত্রকে পাঠাবে না কংগ্রেস। লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দলের সভাপতি পদ থেকে রাহুল গান্ধী ইস্তফা দিতে চাওয়ায় যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত। কংগ্রেসের মুখপাত্র রনদীপ সুরজেওয়ালা বৃহস্পতিবার তার টুইটে এই কথা জানিয়েছেন।
রনদীপ লিখেছেন, ‘সব টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ও সম্পাদকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তারা যেন তাদের কোনো শোয়ে কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানান।’ কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত?
কংগ্রেস নেতাদের একাংশ বলছেন, এর দুটি কারণ থাকতে পারে। এক, দলের নেতাদের সংবাদমাধ্যমের উপর পুরোপুরি নির্ভরতার অভ্যাস থেকে বের করে আনার চেষ্টা। মানুষের কাছে না গিয়ে শুধুই টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্কে হাজির হয়ে সহজে কিস্তিমাত করার যে প্রবণতা রয়েছে রাজনীতিকদের, দলের এই অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের পর, তা বন্ধ করারও চেষ্টা হতে পারে এই সিদ্ধান্ত। দুই, যে মানুষের রায়ে যে ভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার, তাতে এখনই টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্কে হাজির হয়ে কোনো কংগ্রেস নেতা তার বিরোধিতা করা শুরু করলে অন্য বার্তা যাবে ভোটারদের কাছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা
সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটে ৫৪৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৫২টি আসন। ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যত, মুছে গিয়েছে কংগ্রেস। এমনকী, যে তিনটি রাজ্য, গত ডিসেম্বরের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের হাতে এসেছিল, সেই মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীসগড়েও মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে লোকসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি রাহুলও হেরেছেন তার কেন্দ্র আমেথিতে, ২০০৪ সালে যেখানে তিনি অনায়াসে জিতেছিলেন।