ঈদ শেষে দৌলতদিয়ায় কর্মজীবী মানুষের ঢল
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৫
ঈদ উল ফিতরের ছুটি শেষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস-ট্রেন বোঝাই করে মানুষ ছুটছে ঢাকায়। পথে নদীপাড় হতে দৌলতদিয়া ঘাটে গতকাল রবিবার দুপুর থেকে কর্মজীবী যাত্রীর ঢল নামে। এ সময় হাজার হাজার যাত্রী ঘাটে এসে নদীপাড়ের অপেক্ষায় আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় নৌযান কম থাকায় যাত্রী পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ নিয়ে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ শত শত বিভিন্ন গাড়ি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদীপাড়ের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে। সময় বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সেখানে বাড়তে থাকে গাড়ির চাপ। এতে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ক্যানেলঘাট এলাকা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার পথে গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। এদিকে লঞ্চপারাপার বিভিন্ন পরিবহনের বাসযাত্রীদের কয়েক কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের উপরে নামিয়ে দেয়ায় যাত্রীরা দীর্ঘ পথ পয়ে হেঁটে লঞ্চঘাটে পৌঁছান। বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিক সূত্র জানায়, ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়ালে আটকে থাকায় বাসের সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহায় নারী ও শিশু যাত্রীরা।
ঘাট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন পারাপার হয়। ঈদ শেষে দৌলতদিয়া ঘাটে হাজার হাজার মানুষের বয়ে আনা শত শত গাড়ির চাপ হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়ায় এ ঘাটে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট অফিসার মো. কবির হোসেন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে মোট ৩৭টি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমান সেখানে মাত্র ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে। অপর ১৫টি লঞ্চ পাটুরিয়া-কাজীরহাট রুটে পাঠানোর কারণে বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে লঞ্চ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান এই নৌরুটে ছোট-বড় মোট ১৫টি ফেরি সার্বক্ষণিকভাবে সচল রয়েছে। রুটে চলাচলকারী অপর দুটি ইউটিলিটি ফেরি শাপলা-শালুক ও মাধবী লতা যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল থাকায় তা এখনো সচল করা যায়নি। যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় দৌলতদিয়ায় কিছু গাড়ি নদী পাড়ের অপেক্ষায় আটকা আছে। তবে রুটে যে ফেরিগুলো সচল আছে নতুন কোন সমস্যা না হলে রাত ৭-৮ টার মধ্যে সকল গাড়ি নদী পার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।