নূর হোসেনের কাছে যাচ্ছিলেন শ্যালক নূরে আলম
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৭
ভারতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের কাছে জামা-কাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছে দিতেই কলকাতায় যাচ্ছিলেন তার শ্যালক নূরে আলম খান। মালিবাগ রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় পড়া প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার হওয়া গুলি ভর্তি পিস্তল, জামা-কাপড় ও কিছু কাগজপত্র দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় নূর হোসেনের কাছে এগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্যই তারা রওনা দিয়েছিলেন। নূরে আলম খানকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ রেড এলার্ট জারি করে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
কমলাপুর জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের জানান, গত শুক্রবার বিকালে প্রাইভেটকার যোগে আনসার আলী ওরফে ইয়ার রহমান, নূর হোসেনের শ্যালক সোনারগাঁও থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম খান ও জাকির হোসেন নামের ৩ জন দ্রুতগতিতে মালিবাগ রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় তাদের বহনকারী গাড়িটি চলন্ত ট্রেনে ধাক্কা খায়। এতে করে ওই প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহত হয় চালকসহ ৩ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার পরপরই আহতরা পালিয়ে যায়। এতে করে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ প্রাইভেট কার থেকে নতুন পাজামা, পাঞ্জাবী, কাগজপত্র, ২০ রাউন্ড গুলিসহ একটি অত্যাধুনিক নাইন এমএম স্বয়ংক্রিয় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন শনিবার পুলিশ অস্ত্রের নম্বর ও লাইসেন্স মিলিয়ে নিশ্চিত হয় পিস্তলটি নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের।
জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র দেখে আমরা নিশ্চিত হই কলকাতায় নূর হোসেনের কাছে যাওয়ার উদ্দেশেই তারা রওনা হয়েছিল। কারণ কয়েকদিন আগে আদালতে হাজির করা হলে নূর হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার স্বজনরা শিগগিরই কলকাতায় আসছেন। এরপরই তিনি জামিনের আবেদন করবেন। এ থেকে আমরা ধারণা করতে পারি, নূর হোসেনের শ্যালক কলকাতায় যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় মোট দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটিতে নূরে আলম ও আনসার আলীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আনসার আলী অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তাকে পুলিশ পাহারায় চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। আর নূরে আলম খান পলাতক রয়েছেন। এছাড়া ওই প্রাইভেট কারে থাকা জাকির নামের আরও একজনের নাম পাওয়া গেছে। নূরে আলম ও জাকিরকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আনসার আলী সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে পুরো বিষয় পরিষ্কার হওয়া যাবে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নূর হোসেনের যে দুটি অস্ত্রের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না সেটির মধ্যে একটি এবার উদ্ধার হল। বাকি পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেলটি তাদের কাছে আছে। কেননা এ অস্ত্রটির গুলি ওই দিন গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল এমনকি শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নূরে আলম খানকে আটক করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সোর্স লাগানো রয়েছে। তাকে দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।