দুর্ভোগে পুরান ঢাকাবাসী

পুরান ঢাকায় ক্রমেই জনদুর্ভোগ বাড়ছে। যানজট, ভাংগা-চোরা রাস্তা, ঢাকনা বিহীন ম্যানহোল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, মশা-মাছির উপদ্রবসহ পানি ও গ্যাস সংকটে পড়েছে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। এছাড়া পুরান ঢাকার ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অধিকাংশ স্থানে ভেঙ্গে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমাট হয়ে রাস্তায় কাদা পানির সৃষ্টি হচ্ছে। সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গণ-ধরনা দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। রাস্তার বেহালদশা ঃ নয়াবাজার, মিটফোর্ড রোড, বুড়িগঙ্গা বেড়ীবাঁধ সড়ক, সোয়ারিঘাট, নবাবপুর, ঠাটারী বাজার, যোগীনগর ও ওয়ারীর রাস্তার দীর্ঘ দিন যাবত্ বেহালদশা। ওয়ারী-দয়াগঞ্জ রাস্তাটি মেরামত ও সংস্কার না করায় যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ম্যানহোলের ঢাকনা বসানোর কাজ গত তিন মাসেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলেও নিম্নাঞ্চলের নানা বস্তু অপসারণ না করায় জয়কালী মন্দির হয়ে রাজধানী মার্কেট, স্বামীবাগ, জুরাইন, পোস্তগোলা ও যাত্রাবাড়ির যাত্রীদের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকনা বিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা ম্যানহোলগুলো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়াও কোন কোন স্থানে স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইনের পানি জমা হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। এদিকে মিটফোর্ড সড়ক ও বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর প্রান্তের বেড়ীবাঁধ সড়কটি দীর্ঘ দিনেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক প্রসূতি মা ও রোগী এই রাস্তায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে এসে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। যান চলাচল বন্ধ ঃ ম্যানহোলের ঢাকনা বসানোর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে নবাবপুর হয়ে ঠাটারী বাজার, যোগীনগর এমনকি ওয়ারী-জয়কালী মন্দির রাস্তায় রিকশা-ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে আশপাশের বাসিন্দাসহ এ পথে যাতায়াতকারী শত শত মানুষ বিপাকে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও দোকানের মালিকরা মালপত্র আনা-নেয়ার কাজ করতে পারছে না। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ঃ পুরান ঢাকার যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ লক্ষ্য করা গেছে। নবাবপুর হাই স্কুল ও বংশাল এলাকায় ঢাকা সিটি করপোরেশন দুইটি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। পুরো এলাকার ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। ডাস্টবিনের চারিপাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা। বনগ্রাম সড়কে, যোগীনগরে ও ঠাটারী বাজারের বিভিন্ন স্থানেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। ম্যানহোলের ডাকনা চুরি ঃ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পুরনো ঢাকায় ম্যানহোলের ডাকনা চুরির ঘটনা সম্প্রতি আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফরিদাবাদ, নয়াবাজার, চকবাজার, ইসলামপুর, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, বংশাল, কাজী আলাউদ্দিন রোর্ড, মালিটোলা, সদরঘাট, বাংলাবাজার, ইংলিশ রোডসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা থেকে ম্যানহোলের ডাকনা খুলে নিয়ে গেছে এক শ্রেণির চোর। ফলে খোলা ম্যানহোল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক জিডি করা হয়েছে। মশা ও মাছির উপদ্রব ঃ পুরান ঢাকায় গত বেশ কিছু দিন যাবত্ মশা ও মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার আগেই ঝাঁকে-ঝাঁকে মশা নেমে আসছে রাজধানীর বুকে। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে মশার ওষুধ স্প্রে না করায় এই উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তোভোগীরা। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদক আতঙ্ক ঃ মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ঠাটারী বাজার, যোগীনগর ও ওয়ারী এলাকায় মাদকের আতঙ্ক বেড়েছে। মাদক বিক্রি ও সেবনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক অভিভাবকই তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- একটি বিশেষ মহল তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকাসক্ত করে তাদের বিপথগামী করে তুলছে। পানিতে দুর্গন্ধ : এদিকে পুরান ঢাকায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে কিছুটা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা । ওয়ারীর এক বাসিন্দা ইত্তেফাককে বলেন, সারা বছর ধরেই ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। একাধিকবার ঢাকা ওয়াসার স্থানীয় কার্যালয়ে অভিযোগ করলেও দুর্ভোগ লাঘবে কোন ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ইত্তেফাককে বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত পানি সরবরাহ করাই ঢাকা ওয়াসার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে নগরীর কোথাও পানির সংকট নেই। পুরান ঢাকার কিছু কিছু স্থানে ওয়াসার লাইনে লিকেজ থাকায় তা দিয়ে কোন কোন সময় ময়লা-আবর্জনা প্রবেশ করে পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওয়াসার কর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন ঘটনা স্থলে। সংকট নিরসনে ওয়াসা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।