সেই মাইক্রোবাস জব্দ চালক পলাতক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৬
শ্যামলী দুর্ঘটনায় মামলা
রাজধানীর শ্যামলীতে ধাক্কা খেয়ে মাইক্রোবাসের সামনে পড়ে প্রাণ হারানো ব্যক্তির নাম তোফাজ্জল হোসেন (৪৫)। পেশায় তিনি বীমা-কর্মী। গত রবিবার শ্যামলী আশা টাওয়ারের সামনে ধাক্কা খেয়ে তোফাজ্জল মাইক্রোবাসের সামনে পড়ে বাম্পারে আটকে যান। তীব্র বেগে প্রায় এক কিলোমিটার চালিয়ে যান মাইক্রোবাসের চালক। আর ততক্ষণে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণে হাফ হাতা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা তোফাজ্জলের শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাংস উঠে যায়, মাথা ফেটে বেরিয়ে যায় মগজ। সেখানেই মারা যান তিনি।
ঘটনার পর মিরপুরের মাজার রোড থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ ১৪-২১৬৯) জব্দ করে দারুসসালাম থানার পুলিশ। তবে এর চালক পালিয়ে গেছেন। দারুসসালাম থানার পুলিশ রবিবার রাতে মোহাম্মদপুর থানায় গাড়িটি হস্তান্তর করে।
মাইক্রোবাসের মালিক মামুন হোসেন নোয়াখালী থেকে টেলিফোনে সাংবাদিকদের বলেছেন, তার ভগ্নিপতিকে আনতে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যায় তার মাইক্রোবাসটি। পথে এই ঘটনা ঘটে। এরপর কল্যাণপুরের একটি বাসায় গাড়ির চাবি রেখে চালক পালিয়ে যান। মামুন বলেন, ‘আমি নোয়াখালীতে রেন্ট-এ কারের ব্যবসা করি। ঘটনার পর ড্রাইভারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছি। তবে কল্যাণপুরের বাসায় চাবি রাখার সময় ড্রাইভার বলেছিল যে, সামনের একটি প্রাইভেট কার ধাক্কা দিলে একজন লোক আমার মাইক্রোবাসের সামনে পড়ে যায়।’ রাজধানীর আদাবর এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বাস করতেন তোফাজ্জল। ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন তোফাজ্জলের স্ত্রী শামীমা চৌধুরী। শামীমার দাবি, তার স্বামীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক জানান, রাস্তায় তোফাজ্জলের ব্যাগ পড়েছিল। ব্যাগটির ভেতরে ঠিকানা পেয়ে তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মাইক্রোবাসের চালককে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।