উদ্ধার হওয়া প্রথম লাশটি মেডিক্যাল ছাত্রী হিরার
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাট থেকে
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৭
সিকদার মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী নূসরাত জাহান হিরা (২০) ও সিটি কলেজের ছাত্রী ফাতেমা তূজ জোহরা স্বর্ণাকে (১৮) নিয়ে বাবা নুরুল হক রওনা দিয়েছিলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। সঙ্গে ছিল খালাতো বোন জান্নাত নাঈম লাকী। মাওয়া ফেরি ঘাটে ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী হয়েছিলেন তারা সবাই। তীরে উঠে মেয়েদের হারিয়ে বুক চাপড়াতে থাকেন নুরুল হক। কিছুক্ষণ পর খুঁজে পান হিরার লাশ। উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে প্রথম লাশটিই তার বড় মেয়ে হিরার। মেয়ের লাশ পেয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন বাবা।
শুধু নুরুল হকই নন পদ্মার পাড়ে তার মতো শত শত মানুষের কান্না আর আহাজারিতে পদ্মার পাড়ের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাদি (৪০) বুক চাপড়াতে চাপড়াতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। ঈদে বাড়িতে বাবার সাথে দেখা করে ঢাকায় ফেরার পথে লঞ্চ ডুবিতে হারিয়ে ফেলেছেন স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে। ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আসা হনুফা বেগম স্বামী হেমায়েত হাওলাদার ও দেবর বাবুল হাওলাদারকে খুঁজে না পেয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন বার বার। কাঁদতে কাঁদতে হনুফা বললেন, লঞ্চ ডুবে যাওয়ার সময় স্বামীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকা এক ঢেউয়ে স্বামীর হাত থেকে হাত ছুটে যায়। মনে হল চিরদিনের জন্য এই বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল।
ফরিদপুরের কালকিনির নিলুফার তার খালাতো ভাই দাদন ও মেয়ে ইতিকে নিয়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে স্বামীর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। খালাতো ভাই আর মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে এখন তিনি পাগলপ্রায়। বরিশালের উজিরপুরের মিজানুর রহমান নয় বছরের সন্তান ইন্তাজকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন ঢাকায়। এখনো খোঁজ মেলেনি প্রিয় সন্তানের। সুজন (২৫) খালাতো ভাই বোন মিরাজ (৯), ইব্রাহিম (১৭) ও ইপাকে (১৫) সঙ্গে নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। সুজন জীবিত উদ্ধার হলেও বাকী তিনজনের এখনো খোঁজ মেলেনি। লঞ্চ ঘাটে স্থাপিত নিখোঁজদের অস্থায়ী ক্যাম্পে এসে ভাই-বোনদের জন্য বিলাপ করছিলেন সুজন। আপনজনকে আর জীবিত খুঁজে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে অন্তত মৃতদেহটি পেতে অধীর আগ্রহে পদ্মার পাড়ে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ।