গল্প নয় সত্যি

অলসদের প্রতিযোগিতা!

সব মিলিয়ে গোটা দুনিয়ায় হরেক রকম আর বিচিত্র প্রতিযোগিতার নেহাত কমতি নেই। তবে আয়োজনের বৈচিত্র্য আর পাগলামীর দিক দিয়ে এদের সবাইকেই যেন টেক্কা দেবার যোগ্যতা রাখে ইউরোপের দেশ মন্টেনেগ্রোতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অলস অলিম্পিক। এ বছর এই আয়োজনের দ্বিতীয় আসর দেশটির পিভা অঞ্চলে অবস্থিত আদিবাসী গ্রাম ব্রেজনিকে শুরু হলেও খুব বেশি সংখ্যক মানুষ এর কথা জানেন না। আর জানবেনই বা কীক রে? আয়োজকরাও যে তাদের অলসতার কারণে অনুষ্ঠানটির প্রচারণা নিয়ে মাথা ঘামানোর ঝক্কি নিতে চাননি। এদিকে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের মতো এবারও আন্তর্জাতিক অলস অলিম্পিকের একমাত্র ইভেন্ট হিসেবে প্রতিযোগীদের গাছের নিচে অলস শুয়ে বসে সময় কাটাতে হবে। তবে কেউ যদি এর মাঝে অন্য কোনো কাজ করার চেষ্টা করেন বা কোনো ধরনের সক্রিয়তা দেখান তাহলেই তার নাম কাটা যাবে প্রতিযোগিতা থেকে। আবার প্রতিযোগিতায় কে প্রথম হবে কিংবা কে দ্বিতীয় হবে তা নির্ধারণের নির্ধারিত কোনো নিয়মাবলীও তৈরি করা হয়নি আজ পর্যন্ত। আর এর কারণ হিসেবে বিচারকেরা বলেছেন, অতসব নিয়ম-কানুন বানাতে যতটা পরিশ্রম করতে হয় সেটা তাদের কাছেও বাড়াবাড়ির কমের কষ্টের কাজ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও গত বছরের রীতি অনুযায়ী এ বছরও সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সময় অলস শুয়ে থাকা ব্যক্তিটিই জিতবেন অলসদের এই প্রতিযোগিতা। যেমনটি প্রথম আসরে িজতেছিলেন ভ্লাদানবাজালিকা নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে অলসদের সেরা প্রমাণ করার পথে ভ্লাদান একটানা ৩২ ঘণ্টা অলস শুয়েছিলেন গাছের ছায়াতে। আর এ কাজটিকে যারা নেহাতই সোজা ভাবছেন তাদের জন্য এই আসর শুরু হবার আগে ভ্লাদান বেশ কড়াভাবেই বলেছেন, ‘সত্যি বলতে কি, অলসভাবে শুয়ে বসে কাটানোর জন্যও বেশ মনোযোগ আর প্রচেষ্টার দরকার হয়। এ কারণে আমি মনেকরি, এ বছর যে অলস থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম (!) করবে সে-ই শিরোপা জিতবে। তাছাড়া এই প্রতিযোগিতাটি এখন আগের চাইতে অনেক বেশি কঠিনও হয়ে পড়েছে।’ আয়োজকরা জানিয়েছেন, চলতিবছর বিজয়ীকে ৩০০ পাউন্ড দেওয়া হবে। কেননা মেডেল বানানোর চাইতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বিজয়ীকে দিয়ে দেওয়াটাই তাদের কাছে কম কষ্টের বলে মনে হয়েছে।