ইরাকে কুর্দি যোদ্ধাদের সহায়তা দিতে বিমান বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ইরাকের উত্তরে সুন্নি যোদ্ধাদের সাথে সংঘর্ষরত কুর্দি বাহিনীকে সহায়তা করতে বিমান বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস) কুর্দি সেনাদের থেকে দুইটি শহর ও তেলক্ষেত্র দখল নেয়ায় সোমবার তিনি এ পদক্ষেপ নিলেন। কুর্দি সেনারা জানিয়েছেন, তারা পাল্টা আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছেন। সুন্নি জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে গত রবিবার পিছু হটার পর কুর্দিরা এ পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা বেশকিছু এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেও এখন তারা পাল্টা লড়াই চালানোর জন্য ব্যাপক সংখ্যক যোদ্ধাকে ডেকে পাঠাচ্ছে। অঞ্চলটিতে পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। খুব শিগগিরই কিছু করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। এদিকে গত জুনে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা দখলে নিয়ে নেয় জঙ্গিরা। এছাড়া ইসলামিক স্টেট গ্রুপের সাথে যোগ দিয়েছে দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘু সুন্নিরা। তখন থেকেই স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল ও বাগদাদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এদিকে দেশটির এক সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, পেশমার্গা (কুর্দি) বাহিনীকে সাহায্য করতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ইতিমধ্যেই বিমান বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কুর্দি নেতারা এ বিষয়ে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ওদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, সপ্তাহ জুড়ে সহিংসতা চলছে এবং সুন্নি যোদ্ধারা সিনজার ও জুমার শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়ায় দেশটির জাযিদি ও শাবা সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অন্যদিকে সম্প্রতি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এই সশস্ত্র গ্রুপটি। ফলে আতঙ্কে শহর ছেড়ে পালাচ্ছে বেশিরভাগ খ্রিস্টান পরিবারগুলো। গ্রুপটি শহর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর গত ১০ জুন থেকে লোকজন শহর ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি দুইজন নান ও তিনজন এতিম শিশুকে অপহরণ করে দলটির কিছু সমর্থক, যদিও ১৭ দিন পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এর ফলে এখন জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। সশস্ত্র দলটির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, খ্রিস্টানদের হয় মুসলমান হতে হবে, কর দিতে হবে অথবা মরতে হবে। এরপরই গত ১৯ জুলাই থেকে মানুষজন আবারো ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে শুরু করে। এছাড়া অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও তাদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের রাজধানী ইব্রিলের শহরতলী আঙ্কাওয়ার এক খ্রিস্টান বাসিন্দা আজিজ আল জাবেরি পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,ওরা আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। এদিকে রাষ্ট্রীয় টিভি এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা রবিবার বলেছে, ইসলামিক স্টেট ইরাকের সবচেয়ে বড় বাঁধ দখল করেছে। কুর্দি পেশমার্গা কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদেরকে বাঁধ এলাকা থেকে হটিয়ে দিয়েছে। তবে খবরটি তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত জানা যায়নি। কুর্দিরা কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে দাবি করে পেশমার্গা বাহিনীর এক কর্নেল বলেছেন, কয়েকটি কুর্দি ব্রিগেড রবিবার হারানো সব অঞ্চল পুনর্দখল করবে এমনকি মসুলও নিজেদের দখলে নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, তারা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের ওপর হামলা করব। কোনো দয়া দেখাব না।