শান্তির পাহাড়ে অশান্তির আগুন, সাত মাসে আট খুন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪০
পার্বত্য এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে বিবদমান তিনটি সশস্ত্র পাহাড়ি সংগঠনের অস্ত্রের গুলিতে গত সাত মাসে ৮ জন খুন হয়েছেন। নিহতদের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস, সন্তু) এমএন লামার কেউবা ব্যবসায়ী। এ সময় অস্ত্রধারীদের গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ৭জন। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে অর্ধশতাধিক।
ইউপিডিএফ তাদের হাত ছাড়া হওয়া এলাকা পুনঃদখল করতে তত্পরতা চালাচ্ছে। জেএসএসও ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো তাদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও ইউপিডিএফ ও জেএসএস (এম এন লামা) একত্রে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপকে প্রতিরোধ করছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে সহিংসতার ঘটনা। পড়ছে লাশের পর লাশ। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। আবার অনেক সময় নিহত হওয়া লাশকে গুম করা হচ্ছে। সশস্ত্র সংঘাতের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে নিহতের লাশ খুঁজে পাচ্ছে না। এ সব সন্ত্রাসী ঘটনার জন্য আঞ্চলিক সংগঠনগুলো পরস্পরকে দায়ী করলেও কেউ তার দায় স্বীকার করছে না।
গত ১৬ জানুয়ারি থেকে এ সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় আটজন খুন হয়েছে। অপহূত হয়েছে বিপুল সংখ্যক। সর্বশেষ ২৩ জুলাই রাঙ্গামাটি কুতুকছড়ি থেকে কার্বারীসহ ২জনকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। ১৩ জুলাই রাঙ্গামাটি শহরে ক্ষুদ্র এক ব্যবসায়ী অপহরণ। ২০ জুলাই রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর বগাছড়ি থেকে এক এনজিও নারী কর্মীকে অপহরণ করে ৫ঘণ্টার পর মুক্তি দেয়া হয়। তাছাড়া দুর্গম উপজেলাগুলোতে প্রতিদিনই হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ ছোট-বড় ঘটনা ঘটলেও দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে তা জানতে পারে না কেউ।
পাহাড়ের ওই তিন সশস্ত্র সংগঠন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। রাঙ্গামাটি জেলা থেকে শুরু করে প্রত্যেক উপজেলায় বিভিন্ন কাজের জন্য পাহাড়ী অথবা বাঙালি যেই হোক তাদের চাঁদা দিতে হয়। এমনকি কৃষকরা তাদের ফসলী জমিতে উত্পাদিত শস্যের উপর চাঁদা দাবি করে আসছে।