হাজার মণ ধান ঘরে তুলেও খুশি নয় সিলেটের কৃষক!

ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও সিলেটের কৃষকদের মুখে হাসি নেই। জেলার কৃষকদের গোলায় এবার উঠেছে হাজার হাজার মণ ধান। কিন্তু সেই ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, উত্পাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবার দাবিতে রংপুর ও নওগাঁয় পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস ও মো. বুরহান উদ্দিন সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ‘ধানের চেয়ে বেশি পরিমাণে চাল কেনার সরকারি নীতিমালার কারণে এবার সিলেটের কৃষকদের লাভ হবে না’- এমন মন্তব্য করেছেন মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা। তারা বলেন, কৃষকদের লাভ তো হবেই না বরং   তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা বলেন, অন্য জেলা থেকে কম দামে ধান কিনে চাল তৈরি করে সিলেটের কোনো কোনো  মিলে ইতোমধ্যে ঢোকানো শুরু হয়ে গেছে। আর বেশি দামে তারা সেই চাল বিক্রয় করছে সরকারি গুদামে। এতে মিল মালিক আর ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। বিপরীতে কৃষকদের মাথায় হাত। সিলেট বিভাগীয় খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার সিলেটের চার জেলা থেকে মাত্র ১৩ হাজার ৮০৩ মেট্রিক টন ধান ও ৬৮ হাজার ৩২৪ মেট্রিক টন ( আতপ ও সিদ্ধ) চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, এই বিভাগে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন ধান উত্পাদন হয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগের কৃষকরা বিপুল ধান তাদের গোলায় রেখেও সুখি নয়। উত্পাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য মণ প্রতি দুইশত টাকা কম বলে গোলার ধান গোলাতেই পড়ে আছে। অন্তত উত্পাদন মূল্যে ধান বিক্রয় করতে কৃষকরা ধরনা দিচ্ছেন নানা স্থানে। কিন্তু পারছেন না। হাওর পাড়ের বাসিন্দরা বলেন, সামনে ঈদ-হাতে টাকাও নেই। তাই ঈদের আনন্দও নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করি। কোনো মিল নীতিমালা মোতাবেক চাল সরবরাহ না করলে তা কালো তালিকাভুক্ত হবে।’

স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর) জানান, হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ  খুলে সরকারি উদ্যোগে  ১০৪০ টাকা মণ দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় ও খেতমজুরদের সারাবছর কাজ ও আর্মিরেটে রেশন চালুর দাবিতে কৃষক-খেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ রংপুর জেলার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার পাগলাপীরে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ২০ লাখ মেট্রিকটন ধান কেনার দাবিতে নওগাঁর মহাদেবপুরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে মহাদেবপুরে চকগৌরী বাজারে এই কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা কৃষক খেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ।  বক্তরা বলেন, কৃষকরা ধান উত্পাদন করলেও কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছে না। হাট-বাজারে ধানের দাম নেই। প্রতি বিঘায় ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।