খুলনায় এক ভিক্ষুকের ব্যাগে চার লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তার ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত ব্যাগ অনুসন্ধান করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়। ওই ভিক্ষুক ‘পাগল’ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। যদিও স্থানীয় থানার ওসি জানিয়েছেন, ওই ভিক্ষুক মস্তিষ্ক বিকৃত, সত্যিকারের পাগল নন। তাকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কৌতূহলবশত কয়েকজন যুবক নগরীর খালিশপুর মিল গেট এলাকায় ভিক্ষুকের কাঁধে ঝোলানো ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত ব্যাগ তল্লাশি করেন। ব্যাগে ভাঁজ করে রাখা ৫শ’ টাকার কয়েকটি বান্ডেল পাওয়া যায়। গণনায় দেখা যায়, ব্যাগে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আছে। খবর শুনে অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন। পরে পুলিশ এসে টাকাসহ ওই পাগল ভিক্ষুককে (৬৫) নিজেদের জিম্মায় নেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ভিক্ষুক নিজের নাম জেবাল হক বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নগরীর দৌলতপুর বাজার, বিএল কলেজ, খালিশপুর পিপলস গোল চত্ব্বর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করতেন জেবাল হক। তবে তিনি কখনো টাকা চাইতেন না। মাঝে মাঝে তার গান শুনে মানুষ খুশি হয়ে টাকা দিতো। স্বাধীনতার পর থেকেই জেবাল হক খালিশপুরের পথে পথে ভিক্ষা করে আসছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে আমি টাকা আয় করেছি। খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশারফ হোসেন বলেন, টাকার মালিক জেবাল হক পাগল নয়, মস্তিষ্ক বিকৃত। জিজ্ঞাসাবাদে নাম বললেও বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেননি। বেশি টাকা হলেই তিনি ১শ’ ও ৫শ’ টাকার নোট বানিয়ে ব্যাগের মধ্যে রাখতেন। ওসি জানান, সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।