জয়াবর্ধনের বিদায়ী সিরিজে জয় চায় শ্রীলঙ্কা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৪
তারকা ব্যাটসম্যান মাহেলা জয়াবর্ধনের বিদায়ের রাগিণীর মধ্যে আয়োজিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে আজ শ্রীলঙ্কায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ সময় ১০টায় গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হবে খেলাটি। জয়াবর্ধনে এই সিরিজের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন। এই তারকা ব্যাটসম্যানের বিদায়ী সিরিজে জয়ই প্রত্যাশা করছেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
কিংবদন্তীতুল্য ডানহাতি ব্যাটসম্যান জয়াবর্ধনের টেস্ট অভিষেক হয় ১৯৯৭ সালে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। এ পর্যন্ত ১৪৭টি টেস্ট খেলে ১১,৬৭১ রান নিয়ে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ষষ্ঠস্থানে অবস্থান করছেন তিনি। এর মধ্যে ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত করে এনেছেন তিনি।
বাংলাদেশে এপ্রিলে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই সংক্ষিপ্ততম ঘরানার ক্রিকেটকে বিদায় জানান জয়াবর্ধনে। এবার বিদায় জানাতে যাচ্ছেন টেস্ট ক্রিকেটকে। তবে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা এখনো টিকে আছে ৩৭ বছর বয়সী লঙ্কান ব্যাটসম্যানের।
জয়াবর্ধনে টেস্ট ক্রিকেটে প্রশংসনীয় পারফরমেন্সের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই ঘরানার ক্রিকেটে ৫০ দশমিক ৯ গড়ে রান করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৩৭৪ রানের ইনিংসসহ ৫৪টি শতক হাঁকিয়েছেন কলম্বোয় জন্ম নেয়া এই ব্যাটসম্যান! অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন ৪৮টি।
মাহেলা জয়াবর্ধনে এমন সময় পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছেন, যখন দীর্ঘ দিনের সতীর্থ কুমার সাঙ্গাকারা আর মাত্র ছয় রান করলেই তাকে স্পর্শ করবেন। টেস্টে রানের তালিকায় ১১,৬৬৫ রান নিয়ে জয়াবর্ধনের পরেই আছেন সাঙ্গাকারা।
বিদায়ী সিরিজ হওয়ায় টেস্ট দু’টির জন্য জয়াবর্ধনের প্রিয় দুই ভেন্যু গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এবং কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবকেই নির্ধারণ করেছেন বিচক্ষণ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের বিচক্ষণ কর্মকর্তারা। পরিসংখ্যানই বলছে ভেন্যু দুটিতে কতটা সফল জয়াবর্ধনে। গল মাঠে এ পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলে ২,২৯৭ রান করেছেন তিনি, সিংহলিজ স্টেডিয়ামে ২৬টি টেস্ট খেলে রান করেছেন ২,৮৬৩। প্রকৃতপক্ষে সিংহলিজে অনুষ্ঠেয় সিরিজের শেষ টেস্টটি পি সারাভানামুতু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের কথা ছিল।
জয়াবর্ধনের বিদায়টা শ্রীলঙ্কা দলের জন্য বড় শূন্যতা বলে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তবে এটা সিরিজে দলকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না বলে জানালেন লঙ্কান অধিনায়ক। ম্যাথুস বলেন, ‘তার (জয়াবর্ধনে) জন্য এবং শ্রীলঙ্কা দলের ভবিষ্যতের জন্য এই সিরিজটি জয়ের প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে সামনে আমাদের কঠিন কাজ করতে হবে।’
চলতি বছরে সব ধরনের ক্রিকেটেই বেশ ছন্দ দেখিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের মাঠে টেস্ট সিরিজ জিতলেও সম্প্রতি নিজেদের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ১-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হেরে এ সাফল্যে ছেদ ঘটায়। তাই ম্যাথুজের দলের লক্ষ্য থাকবে পাকিস্তানকে হারিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়ানো।
দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ১৯৮৬ সালে প্রথম সফরে যায় পাকিস্তান। এরপর থেকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্বাগতিকদের সাথে এখন পর্যন্ত ১৮টি টেস্ট খেলেছে তারা। এরমধ্যে পাকিস্তান ছয় টেস্টে জয় পেয়েছে, হারতে হয়েছে চারটি এবং ড্র করেছে আটটি। নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার চারটি টেস্ট জয় এসেছে গত পাঁচ বছরে। সব মিলিয়ে দল দু’টি এ পর্যন্ত ৪৬টি টেস্ট খেলেছে। এরমধ্যে সাফল্যে ১৭-১১ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান। ড্র হয়েছে ১৮টি টেস্ট। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১২ সালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর কোনো টেস্ট সিরিজে জয় পায়নি পাকিস্তান। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয়ে ফিরতে চায় তারা। দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব আবার তুলে নিয়েছেন সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনিস। ব্যাটিং কোচ হিসেবে রয়েছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক তারকা গ্র্যান্ড ফ্লাওয়ার। তাদের তত্ত্বাবধান এই সিরিজে মিসবাহ বাহিনীদের বাড়তি রসদ যোগাবে বৈকি।
বরাবরের মতো শ্রীলঙ্কায় এবারের সিরিজে স্পিন বোলিংয়ের প্রভাব থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ফর্মে থাকা স্পিনার সাঈদ আজমল ও আবদুর রেহমান এবং লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ ও দিলরুয়ান পেরেরার লড়াইটা ভাল করেই জমতে পারে। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক বলেন, ‘স্বভাবতই শ্রীলঙ্কায় স্পিনের বড় একটা প্রভাব রয়েছে। আমি মনে করি এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। জয়ের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে। কিন্তু এখন আমাদের দরকার নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা।’
দু’দলের মধ্যকার সিরিজের শেষ টেস্টটি শুরু হবে ১৮ আগস্ট। এরপর উভয় দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে।—ডন স্পোর্টস