সাত দিনে ঘর হারালো শতাধিক পরিবার

ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা গ্রাম বিলীন হওয়ার পথে। গত এক সপ্তাহে ঐ এলাকার শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, বসতভিটা, গাছপালাসহ প্রায় এক হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক পরিবার। ভাঙ্গন আতঙ্কে তাদের বসতভিটা, আসবাবপত্র ও গাছপালা কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে ইউনিয়নের পূর্ব গলনা, ভাজন ডাঙ্গা ও পূর্ব গজারিয়া গ্রামেও তীব্র নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। জিয়াডাঙ্গা গ্রামের ভাঙ্গনের শিকার সোলায়মান আলী জানান, বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় যাবেন তারা জানেন না। একই গ্রামের কোরবান আলী অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু তাদের এলাকার ভাঙ্গন ঠেকাতে গত ১০ বছরেও সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বছর বছর নদী ভাঙ্গন থেকে এ এলাকাকে বাঁচাতে সরকারের স্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোতোষ রায় মিন্টু বলেন, এলাকা জুড়ে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জিয়াডাঙ্গা গ্রামের ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গত এক মাসে ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, বসতভিটা, গাছপালাসহ প্রায় তিন হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফুলছড়ির মানচিত্র থেকে জিয়াডাঙ্গা গ্রাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন ঠেকাতে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের আগে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জিআর প্রকল্পের ৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া জানান, এই এলাকার ভাঙ্গন রোধে বর্তমানে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা তাদের নাই।