নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকারের যাত্রা শুরু

লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তারপরই শপথ নেন রাজনাথ সিং ও অমিত শাহ। এর পর একে একে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা শপথ নেন। এবারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন মোদি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের জেডি (ইউ) সিদ্ধান্ত নেন যে, তারা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন না। গতকাল রাষ্ট্রপতি ভবনের আঙ্গীনায় নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় আট হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রপতি ভবনের অঙ্গিনায় শপথ অনুষ্ঠান হলো। এর আগে ১৯৯০ সালে চন্দ্রশেখর, ১৯৯৮ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখানেই শপথ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদেশি নেতা, ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাদের উপস্থিতিতে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানস্থলের উত্তর পাশের প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করেন নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি ভবনের ভেতর থেকে হেঁটে ঠিক সাতটার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি আসার পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। ৬৮ বছর বয়সী নরেন্দ্র মোদি বাদামী-ধূসর নেহেরু জ্যাকেট পরে সূর্যাস্তের কিছু আগে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রীদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরুর পর এক টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, দেশের সেবা করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।

নরেন্দ্র মোদির পর শপথ নেন মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য রাজনাথ সিং। তারপর শপথ নেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছিলো। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, অরুণ জেটলি মন্ত্রী না হওয়ায় ভারতের নতুন অর্থমন্ত্রী হতে পারেন অমিত শাহ। এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদি-অমিত জুটির কৌশল ও রাজনৈতিক দক্ষতায় বিজেপি এককভাবে ৩০৩ আসনে জয়লাভ করেছে।

 

ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মী মিত্তাল, রতন টাটা, মুকেশ আম্বানী, অনীল আগারওয়াল প্রমুখ। ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী ভারতের অধিনায়ক কপিল দেবও উপস্থিত ছিলেন। আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু সাধগুরু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত, সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোশলে, অভিনেতা রজনীকান্ত, অনুপম খের, শহীদ কাপুর, করণ জোহর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে মন্ত্রী হলেন যারা:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, নিতীন গরকড়ি, ডি ভি সদানন্দ গৌড়া, নির্মলা সীতারমন, রামবিলাশ পাসওয়ান, নরেন্দ্র সিং তোমার, রবি শংকর প্রসাদ, হারসিমরাত কাউর বাদল, থাওয়ার চান্দ গেহলত, সুব্রামানিয়ান জয়শঙ্কর, রমেশ রমেশ পখরিয়াল নিশাঙ্ক, অর্জন মুন্ডা, স্মৃতি জুবিন ইরানি, হর্ষ বর্ধন, প্রকাশ জাভরেকর, পীযুষ গোয়েল, ধর্মেন্দ্র প্রধান, মুক্তার আব্বাস নাখবি, প্রল্লাদ জোশী, মহেন্দ্র নাথ পান্ডে, অরভিন্দ গানপাত সাবান্ত, গিরিরাজ সিং, গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়ত্বপ্রাপ্ত) হয়েছেন, সন্তোষ কুমার গ্যাংওয়ার, ইন্দারজিত্ সিং, শ্রীপদ ইয়েসসো নায়েক, জিতেন্দ সিং, কিরেন রিজুজি, প্রল্লাদ সিং প্যাটেল, রাজ কুমার সিং, হারদ্বীপ সিং পুরি, মানসুখ এল. মান্দাভিয়া। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন- ফাগ্গানসিং কুলাস্তে, অশ্বিনী কুমার চুবে, অর্জুন রাম মেগওয়াল, জেনালে (অব.) ভি কে সিং, কৃষান পাল, দানভে রাওসাহেব দাদারাও, জি. কৃষান রেড্ডি, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি, পুরুষোত্তম রুপালা, বাবুল সুপ্রিয়, সঞ্জীব কুমার বলবান, ধতরে সঞ্জয় শামরাও, অনুরাগ সিং ঠাকুর, অঙ্গাদি সুরেশ ছান্নাবাসাপ্পা, নিত্যানন্দ রাই, রতনলাল কাটারিয়া, ভি. মুরালিধরণ, রেনুকা সিং সারুতা, সোম প্রকাশ, রামেশ্বর তেলি, প্রতাপ চন্দ্র সারাঙ্গি, কৈলাশ চৌধুরী ও দেবশ্রী চৌধুরী।