অবিলম্বে সম্প্রচার নীতিমালা বাতিল করুন :বিএনপি
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৫
অনুমোদিত সম্প্রচার নীতিমালাকে ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তারা বলেছে, সরকার নিজেদের দুর্বলতা জনসম্মুখে প্রকাশ হওয়ার ভয়ে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এই নীতিমালা প্রণয়ন করছে। এর মাধ্যমে তারা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ সম্প্রচার নীতিমালাসহ বর্তমান সরকারের সকল জনবিরোধী নীতিমালা ও আইন বাতিল করা হবে।
গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.মঈন খান ও এম কে আনোয়ার এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
ড. আব্দুল মঈন খান অনুমোদিত সম্প্রচার নীতিমালার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও সেই কমিশন হবে সরকারের আজ্ঞাবহ। তিনি এ নীতিমালা বাতিলের দাবিতে বিএনপি ও দলের সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ ২০ দলীয় জোট এবং সকল গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনকে এ বিষয়ে প্রতিবাদ ও স্বোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
মঈন খান বলেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে সরকার তাদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা চেপে রাখতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রচার মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম, সরকারের বাইরের সকল রাজনৈতিক-সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনের বক্তব্য এবং সরকারের অপকর্ম ও ব্যর্থতার সমালোচনা বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই কালাকানুন তৈরি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই কালাকানুন অমান্য করলে শাস্তির বিধান রেখে সম্প্রচার মাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এই নীতিমালায় একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারা গঠিত একটি সার্চ কমিটি ওই কমিশন গঠন করবে। এর অর্থ হচ্ছে- ওই কমিশন হবে সম্পূর্ণভাবে সরকারের পছন্দের ও আজ্ঞাবহ একটি কমিশন। এই কমিশনকে বিধি প্রণয়নসহ সম্প্রচার মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সীমাহীন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে।
ড. মঈন খান বলেন, এই কমিশন গঠনের আগ পর্যন্ত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কমিশনের সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী থাকবে এবং তারা তা প্রয়োগ করতে পারবে। তার অর্থ হচ্ছে- বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যমগুলোও সরাসরি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। আর এতে মত প্রকাশ, সংবাদ প্রচার ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হচ্ছে।
নতুন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানসমূহকে লাইসেন্স দেয়ার কর্তৃত্বই কেবল নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সম্প্রচারে রয়েছে তাদেরকে আবারো নতুন করে লাইসেন্স নেয়ার বিধান করে সরকার ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত করে ফেলেছে।
মঈন খান বলেন, এই নীতিমালায় অনুষ্ঠানে সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামত প্রচার করা যাবে না বলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, প্রেস কনফারেন্স সরাসরি কিংবা ধারণ করে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তথাকথিত নীতিমালায় আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে উত্সাহ প্রদান করতে বা সহানুভূতি সৃষ্টি করতে পারে এমন অনুষ্ঠান ও বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা এবং আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা আইন অমান্য করার পক্ষে সহানুভূতি সৃষ্টি করে এমন কিছু দেখানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের পছন্দের নয় এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনগণের আন্দোলন, পেশাজীবীদের সংগ্রাম ও মানুষের অধিকারের পক্ষের মতামতকে নিয়ন্ত্রণ করার কালাকানুন হিসাবেই জারি করা হয়েছে এই নীতিমালা। এর ভয়াবহ ও যথেচ্ছ অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। মঈন খান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিভিন্ন বাহিনীকে সরকার ভয়ঙ্করভাবে অপব্যবহার করছে। এসব বাহিনীর এক শ্রেণির সদস্য সরকারের আশকারা পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুন-খারাবি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুমসহ গুরুতর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এই সময়ে নীতিমালায় তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন বা বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ করে এসব জঘন্য অপরাধকেই উত্সাহিত করা হয়েছে। এতে জনগণের জানমাল-সম্পদের নিরাপত্তা আরো বিপন্ন হবে এবং জনগণের কাছে বিভিন্ন বাহিনীর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা মোটেও থাকবে না।
এম কে আনোয়ার বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ সম্প্রচার নীতিমালাসহ বর্তমান সরকারের সকল জনবিরোধী নীতিমালা ও আইন বাতিল করা হবে।