ইবোলা প্রতিরোধে ভারতে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা

পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ভারতে সবরকম পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধন লোকসভায় গতকাল বুধবার এক বক্তৃতায় বলেন, ভারতে কারো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম। তারপরও এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তার স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ও রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইবোলা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিত্সা প্রদানে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক কর্মকর্তা ও হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম আফ্রিকার চারটি দেশ গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরালিওন ও নাইজেরিয়ায় ইবোলা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করতে দেশবাসীকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ রোগের কোন প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। তাই এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে যদি আগেভাগে সনাক্ত করা যায় এবং তাকে পুরোপুরি আলাদা রাখা যায় তাহলেই এ রোগের বিস্তার ঠেকানো যাবে। উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকায় আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীর থেকে নিঃসৃত একজাতীয় তরল পদার্থের সংস্পর্শে এ রোগ বিস্তার লাভ করছে। এছাড়া ইবোলা রোগে মারা গেছেন এমন ব্যক্তির শরীর স্পর্শও আশিংকভাবে বিপজ্জনক। এ রোগের উপসর্গ হল-ব্যাপক জ্বর, রক্তক্ষরণ ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। প্রাণহানির হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এ রোগের কোন প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। বাদুরের খাওয় ফল এ রোগের উত্স বলে ধারণা করা হচ্ছে।