মুছিকান্দি পূর্ব পাহাড়টি বাঁচান

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার পূর্বাঞ্চল নামে পরিচিত মিরাশী ইউনিয়নের মুছিকান্দি মৌজার ১৩৮১ একর জমি লিজ গ্রহণের মাধ্যমে পাহাড় দখলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক নিসর্গের লীলাভূমি চুনারুঘাট উপজেলার খ্যাতি দেশজোড়া। সুন্দরবনের পরপরই রয়েছে রঘুনন্দন-রেমা-কালেঙ্গা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই বনাঞ্চল। আর কৃষিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে যে পাহাড় লিজ দেওয়া হয়েছে সেই মুছিকান্দি পূর্ব পাহাড় রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এখানে একইসঙ্গে ঠাঁই নিয়েছেন ভূমিহীন ত্রিশ হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে পাহাড়-টিলা-বনভূমি ধ্বংস করে ব্যবসা সফল করতে ইজারাদাররা পাহারাদার নিয়োগ করেছেন। পরিবেশ দূষণজনিত জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি পাহাড় ও বন ধ্বংসের আয়োজন আমাদের শঙ্কিত করে তুলছে। আমাদের বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১০ শতাংশ- যেখানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। বনজঙ্গল সাফ করে শিল্পকারখানা স্থাপন আমাদের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে; প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করছে। এখানেই শেষ নয়। এ পাহাড়ি এলাকায় শত বছর ধরে বসবাস করা হাজার হাজার মানুষ হয়ে পড়বে গৃহহীন ও বেকার। তাই সবুজ প্রকৃতি ও মানুষ বাঁচাতে পাহাড়টিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশরাফুল ইসলাম রাসেল, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ