হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত
স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৪
ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এই শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। কয়েক বছর আগেও ঈশ্বরদীর তৈরি বাঁশ ও বেতের তৈরি সরঞ্জামের বেশ কদর ছিল। ঝুড়ি, কুলা, ডোল, চাটাই থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিল, বইয়ের সেলফ, মোড়া, এমনকি ড্রইংরুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো।
এছাড়া মাছ ধরার পলো, হাঁস-মুরগির খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা এখনও স্থানীয়ভাবে এবং গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এক সময়ে ঈশ্বরদীর গ্রামাঞ্চলে বিপুল পরিমাণে এসব বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে যেত। তবে বর্তমানে বাঁশ ও বেতের উত্পাদন কমে যাওয়ায় এসব সামগ্রী তৈরিতে খরচের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। মশুড়িয়াপাড়া এলাকার রবি জানান, পূর্বে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর বেশ সমাদর ছিল। কিন্তু আগের মতো এখন আর হাট-বাজারে বাঁশ-বেতের কদর নেই। মাঝগ্রাম-সুন্দরবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০টি আদিবাসী পরিবার এই পেশায় জড়িত। আদিবাসী বিমল জানান, বাঁশ ও বেতের স্থান অনেকটাই প্লাষ্টিক সামগ্রী দখল করে নিয়েছে। ক্রেতাদের বাঁশ-বেতের সামগ্রীর থেকে প্লাষ্টিক সামগ্রী কেনার প্রতি ঝোঁক বেশি বলে তিনি জানান। তাছাড়া এখন বাঁশ-বেতের উত্পাদন কমে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।
ফলে বাঁশ-বেতের সামগ্রীর ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। দরিদ্র বাঁশ-বেত শিল্পী মনোরঞ্জন জানান, পুঁজির অভাবে সমিতি থেকে কর্জ করে বাঁশ-বেতের জিনিস তৈরি করছেন। এনজিও-এর সুদের টাকা শোধ দিয়ে যা থাকে তাতে পরিবারের ভরণ-পোষণ হয় না বলে তিনি জানান। ফলে দুর্মূল্যের বাজারে একবেলা রিকশা চালিয়ে জীবিকার জন্য মনোরঞ্জন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরে সৌখিন মানুষ ঘরে বাঙালির ঐতিহ্য প্রদর্শনের জন্য বাঁশ-বেতের সামগ্রী বেশি দাম দিয়ে কিনলেও মূলত ব্যবহারকারীরা বেশি দাম দিতে চান না বলে বেত শিল্পী জিতেন জানান।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আফরোজা বেগম বলেন, বাঁশ ও বেত শিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।