বিশ্বকাপ উন্মাদনা: উড়ছে একশ একাত্তর পতাকা

বিশ্বকাপ ক্রিকেট উৎসব উপলক্ষে এবার কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলা এলাকার সিডিপ্যাথ নামের একটি বহুতল প্রাইভেট হাসপাতাল ভবনের ছাদে উত্তোলন করা হয়েছে বাংলাদেশের একশ একাত্তরটি পতাকা। ভবনটি ১০ তলা হওয়ায় দূর থেকে যে কারোরই নজর কেড়ে নিচ্ছে দৃষ্টিনন্দন করে উড়ানো পতাকাগুলো।

আর এসব পতাকা উত্তোলন করেছেন ওই হাসপাতালের অফিস সহকারী মোহাম্মদ হাসান নামে এক অফিস সহকারী, যা নগরজুড়ে বেশ আলোচনার ঝড় বইছে। এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলাকালে নারায়ণগঞ্জে এক বাড়িতে ব্রাজিলের পতাকা লাগিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন এক ফুটবলপ্রেমী। ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ আসর।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর বাদুরতলায় সিডিপ্যাথ হসপিটাল ভবনের ১০ তলার ছাদে বাঁশ ও দড়ি ব্যবহার করে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি পতাকা টানিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমী মোহাম্মদ হাসান। তিনি নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত এরশাদ মিয়ার ছেলে।

ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে তার ছোট ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম সিহান লন্ডনে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলেন। ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা তিনবার লন্ডন ক্রিকেট লীগে আমিনুল সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

ক্রিকেটপ্রেমী ও বাংলাদেশ দলের সমর্থক মোহাম্মদ হাসান জানান, বাংলাদেশ দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার খেলায় সেঞ্চুরি করবে এমন আশায় একশটি পতাকা লাগানো হয়েছে এবং অপর একাত্তরটি পতাকা লাগানো হয়েছে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে। 

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙ্গালী জাতি যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঠিক সেইভাবেই এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বাংলার টাইগাররা। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে গত ৫মে থেকে তিনি ১৭১টি পতাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু ঝড়ে ৩ দফায় পতাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই পুনরায় পতাকাগুলো উত্তোলন করতে হয়েছে। এতে সবমিলিয়ে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

ইত্তেফাক/আরকেজি