গান কবিতা আলোচনায় চিরঞ্জীব রবীন্দ্রনাথ
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৯
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৩তম প্রয়াণ দিবসে গানে, কবিতা ও আলোচনায় তাকে স্মরণ করলো বিভিন্ন সংগঠন। তার অমর সাহিত্য, সঙ্গীতের নানা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই মনীষীর কীর্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানালো সবাই। গত বুধবার ছিল তার প্রয়াণ দিবস, বাইশে শ্রাবণ। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমী গত বুধবার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলোচনায় প্রফেসর এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্রনাথের বিকাশপথ মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। জীবনের যাত্রাপথে অনেক প্রতিবন্ধকতা-সমালোচনা ও বিরুদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি তবু অভয় জাগার আনন্দমন্ত্রে নিজে যেমন শুদ্ধ হয়েছেন তেমনি আমাদের সবাইকে বৃহত্তর মঙ্গলালোকে প্রবেশের মন্ত্র দিয়ে গেছেন। একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
লায়লা আফরোজের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রচিত জার্মান বিজ্ঞানী জুলিয়াস হাক্সলির কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
চিরঞ্জীব রবীন্দ্রনাথ শীর্ষক একক বক্তৃতায় ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম বলেন, রবীন্দ্রনাথ মানুষকে বিবেকের বিনাশ থেকে রক্ষা করেন। মানুষ যখন স্বীয় লোভ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে বিবেক ও সততা বিসর্জন দিয়ে অকর্তব্য করে, তখন সে বিবেক-বিনাশের অপরাধে অপরাধী হয়ে পড়ে। তার চাকচিক্যময় বাহ্যিক দেহাবয়ব থাকলেও আসলে সে মৃতবিবেক, এক জড় পদার্থ। মানুষ যাতে লোভ-ভয়-মোহ আর মিথ্যায় তলিয়ে অস্তিত্বহীন অমানুষ না হয়ে পড়ে রবীন্দ্রনাথ সে শিক্ষা মানুষকে দিয়েছেন। প্রাবন্ধিক বলেন, শিক্ষাহীন, স্বপ্নহীন এক পরাধীন প্রান্তিক ভূখণ্ডে জন্ম নিয়ে অমৃত মানুষ হয়েছিলেন তিনি। পৃথিবীর মানুষের জন্য তিনি রেখে গেছেন স্বপ্ন-কল্পনা-প্রেম-প্রাণ-সুর-আলো ও শুভচেতনার একগুচ্ছ চাবি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন লিলি ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অদিতি মহসিন, সুস্মিতা আহমেদ ও আফরাফ মাহমুদ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিত্ সরকার (তবলা), মো. মনিরুজ্জামান (বাঁশি), আলমাস আলী (বেহালা), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।
‘হিরোশিমা দিবস’ পালন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা শহরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা বিস্ফোরণের পর হিরোশিমায় তাত্ক্ষণিকভাবে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। এবং পরে একই বোমা জাপানের ‘নাগাসাকি’ শহরেও নিক্ষেপ করে তারা। সে সময় অর্থাত্ ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ এই দুই শহরের প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। আর, এ কারণেই প্রতিবছরের ৬ আগস্টকে ‘হিরোশিমা দিবস’ হিসেবে সারাবিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশ ও মানুষ দিবসটি পালন করে আসছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনার গতকাল ছিলো ৬৯ বছর পূর্তি।
এ দিবসটি পালন উপলক্ষে নাট্য সংগঠন স্বপ্নদল ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী গতকাল যৌথভাবে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। ‘আর নয় হিরোশিমা, আর নয় নাগাসাকি, নয় কোনো গাজা’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘হিরোশিমা দিবস-২০১৪’-এর যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি গতকাল বুধবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ হলে অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষণ হলের লবিতে ছিল হিরোশিমা-নাগাসাকি-গাজা ভিত্তিক যুদ্ধবিরোধী পোস্টার-আলোকচিত্র-চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এরপর সন্ধ্যায় পরীক্ষণ হলে অনুষ্ঠিত হয় যুদ্ধ থেকে শিশুদের মুক্তি প্রার্থনায় যুদ্ধযন্ত্রণার প্রতীক জাপানি শিশু সাদাকো সাসাকি ও গাজার শিশুদের স্মরণে কাগজের সারস বিতরণ এবং সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরোধী আলোচনা।
শিল্পকলা একাডেমীর সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাস্কৃতিক জেটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান ইউনিভার্সিটি এ্যালামনাই এসোসিয়েশন বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম, জাপান দূতাবাসের গণসংযোগ ও সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান রিওজি সুগে, নাট্যকার মাসুম রেজা, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান, জাপান-বাংলা পিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি হুমায়ুন কবীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বপ্নদলের প্রধান সম্পাদক জাহিদ রিপন।
আর সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরোধী আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় স্বপ্নদলের ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার ৬৫তম মঞ্চায়ন। বাদল সরকারের মূল রচনা অবলম্বনে হিরোশিমা-নাগাসাকির বিয়োগান্তক ঘটনা-নির্ভর স্বপ্নদলের আলোচিত ও দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘ত্রিংশ শতাব্দী’-র রূপান্তরসহ নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।
প্রগতি লেখক সংঘের প্রথম সম্মেলন কাল
‘দ্রোহে আর রুদ্রে বাজাক ঢোলক শূদ্রে’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ’ তাদের প্রথম সম্মেলন করতে যাচ্ছে। আগামীকাল ৮ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই সম্মেলনটির উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন অ্যামিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
গতকাল বুধবার সকালে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটি এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এতথ্য জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্মেলন প্রস্তুতি পর্ষদের আহবায়ক ও জ্ঞান ও সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শায়ক। প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, সম্মেলন প্রস্তুতি পর্ষদের সদস্য সচিব মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, এই সম্মেলনে ভারত, জাপান, ইতালি, প্যালেস্টাইন এবং বাংলাদেশের একুশটি জেলা ও শাখা থেকে প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কর্মীদের স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে উদ্বোধনী আলোচনা ও সাংগঠনিক অধিবেশন।
জাতীয় জাদুঘরের ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেমিনার
আজ ৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর আজ সকাল ১১টায় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘ঢাকা যাদুঘর ও ড. আহমদ হাসান দানী’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মোমিন চৌধুরী। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এম. আজিজুর রহমান।