ইসরাইল-হামাসের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বৈঠক মিসরে
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:২০
ইসরাইল ও হামাসের স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রোতে। গাজায় যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে তা দীর্ঘায়িত করে স্থায়ীভাবে সংঘর্ষ বন্ধের চেষ্টা করছে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পক্ষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল যদি আবার হামলা শুরু করে তবে আবারো ব্যাপকহারে হতাহতের ঘটনা ঘটবে।
এদিকে, টানা ২৯ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসন সাময়িক সময়ের থেমে যাওয়ায় গোলাবারুদের গন্ধমুক্ত একটি দিন পার করেছে গাজাবাসী। এদিন সেখানে কোনো হামলা না হওয়ায় লোকজন শান্তিতে একটি দিন পার করে। তবে সবার মধ্যে আতঙ্ক, আবার সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় কি না।
বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইল ও হামাস যাতে স্থায়ীভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ করে সে লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কায়রোতে যারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে হামাস প্রতিনিধিরাও আছেন। গাজা বর্তমানে হামাসের নিয়ন্ত্রণে আছে। হামাস ছাড়াও ইসলামিক জিহাদ এবং প্যালেস্টাইন অথরিটির প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তবে ইসরাইলের পক্ষে কারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তা প্রকাশ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গাজা থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। তাছাড়া ইসরাইলি হামলায় গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়েছে তা পুনর্গঠনে আন্তজার্তিক তহবিল দিতে হবে। অপরদিকে, ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামাসকে দীর্ঘমেয়াদে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে ইসরাইলের উদ্দেশে আর রকেট নিক্ষেপ করবে না।
গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধে এক হাজার ৮৭৫ ফিলিস্তিনি ও ৬৭ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকি বলেন, ৭২ ঘন্টা যুদ্ধবিরতির পর এর সময়সীমা আরো ৭২ ঘন্টা বা এর বেশি সময় বাড়ানো হবে বলে তিনি আশাবাদী।
গত জুলাই মাসে দখলকৃত পশ্চিম তীরে তিন ইসরাইলি কিশোর ও জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি তিন কিশোরকে হত্যার জন্য হামাসকে দায়ী করা হয়। তবে হামাস এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে। এর কয়েকদিন পর পূর্ব জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে অপহরণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন ৬ ইহুদীকে আটক করে। এরপর মূলত ইসরাইল ও হামাস পাল্টপাল্টি হামলা শুরু করে। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিরা সংগ্রাম শুরু করে। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।