শ্রীমঙ্গলে আনারসের সুদিন আর নেই

শ্রীমঙ্গলের সুমিষ্ট ‘বিলাতী’ (হানিকুইন) এবং রসালো ‘ক্যালেন্ডার’ (জায়ান্ট) আনারসের নাম আজো রয়ে গেছে, কিন্তু মিষ্টতা, সুগন্ধ এবং রসে পরিপূর্ণ আনারসের সে সমাহার আর নেই। উত্পাদন কমে যাওয়ায় শ্রীমঙ্গলের বাজার এখন দখল করে নিয়েছে অন্য জেলার আনারস। জানা গেছে, ষাট -এর দশকে শুরু হওয়া আনারস চাষের হিড়িকে দুই দশকের ভিতরেই স্থানীয় ‘বালিশিরা হিলস’ এবং ‘ ফয়েজাবাদ হিলস’ এর পুরোটাই আনারস চাষের আওতায় চলে আসে এবং ‘শ্রীমঙ্গলের আনারস ’ এর পরিচিতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলিতে শ্রীমঙ্গলের মৌসুমী ফলের বাজারের চিত্র বদলে গেছে। শ্রাবণ-ভাদ্র পর্যন্ত যেখানে ফলের পাইকারি বাজার পূর্ণ থাকতো স্থানীয় আনারসে, সেখানে আষাঢ়ের মাঝামাঝিতেই স্থানীয় আনারসের সমাহার কমে যায়। শুরু হয় অন্য জেলা থেকে আনারসের আমদানি। স্থানীয় আনারস চাষী ও বাগান মালিক সালা উদ্দিন আহমদ এবং আব্দুল মালেক উভয়েই অভিন্ন সুরে জানালেন, শ্রীমঙ্গলের আনারস সাম্রাজ্যের পতনের কথা। শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা হিলস এবং বাহুবলের ফয়েজাবাদ হিলস এর ২০/২৫ হাজার একর জমির আনারস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোক্তার রসনা যুগিয়েছে গত চার-পাঁচ দশক পর্যন্ত। কিন্তু এখন ভোক্তার সংখ্যা বাড়লেও আনারসের প্রাপ্যতা তিন- চতুর্থাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। আর এ শূন্যতা পূরণ করছে মধুপুরের আনারস । প্রতিদিন ভোরে শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারে মধুপুর থেকে ট্রাক বোঝাই হয়ে ২৫/৩০ হাজার আনারস শ্রীমঙ্গল আসে এবং ট্রাক থেকে সরাসরি ছোট ভ্যান বোঝাই হয়ে বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে যায়। তবে মধুপুরের আনারসে ভোক্তার রসনা তৃপ্ত হয় না পরিপূর্ণভাবে। মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় ফাপানো এ আনারসের সুগন্ধ ও মিষ্টতা শ্রীমঙ্গলের আনারসের ধারে-কাছেও না বলে আনারস ভোক্তাদের অভিমত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালিশিরা বা ফয়েজাবাদ হিলস-এর আনারস বাগানের মাটি এখন উর্বরাশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। ১৫-২০ বছর সময়কাল পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য উত্পাদনশীলতা বজায় থাকার পর এতদঞ্চলের আনারস বাগানগুলিতে যখন ফলের আকার ছোট ও উত্পাদন হার কমতে শুরু করে তখন থেকেই আনারস গাছে ঔষধ ও সার প্রয়োগ করে আনারস মোটাতাজাকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়াও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও টেকসই না হওয়ায় বাগান মালিকরা বিকল্প লেবুচাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। লেবু চাষের সাথে নাগা মরিচও চাষ হচ্ছে। বাগান মালিকদের অভিমত, লেবুবাগানের উত্পাদন ক্ষমতা আনারসের চেয়ে বেশি এবং লেবুর বাজারদরও তুলনামূলকভাবে বেশি, তাই তারা এখন আনারস বাগান তুলে ফেলে সেখানে লেবুর চাষ করছেন।