এবোলা ভাইরাস :লাইবেরিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির সিদ্ধান্ত নিতে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈঠক প্রাণঘাতী এবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলেন জনসন দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে কিছু কিছু নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। গিনি, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়ায় ইতিমধ্যে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবোলা ভাইরাস। এ পর্যন্ত অন্তত ৯ শত ৩০ জন মারা গেছে এবোলায়। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য জেনেভায় জরুরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। বৈঠকে সারা বিশ্বে জরুরি অবস্থা জারি করার ব্যাপারে আলোচনা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এবোলার ওষুধ পশ্চিম আফ্রিকায় পাঠানোর সময় এখনো হয়নি। ওষুধটি নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তা কতটা কার্যকরি। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার কর্মকর্তারা নীতিবিদদের কাছে জানতে চেয়েছেন এই সংকটময় মুহূর্তে পরীক্ষামূলকভাবে ওষুধটি প্রয়োগ করা যাবে কিনা। সৌদি আরবে হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে যিনি এবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা করছেন চিকিত্সকরা। ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশ এবং জনগণকে বাঁচাতে আমাদের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিতে হবে। অশিক্ষা, দারিদ্র্য এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কিছু আচরণের কারণে এবোলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে রোগীদের নির্জন স্থানে না রেখে আত্মীয়-পরিজনরা তাদের বাড়িতেই রেখে দিচ্ছেন। এতে করে লাইবেরিয়ায় ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তার ঘটছে। নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবোলা সংক্রমণকে জাতীয় জরুরি সংকট বলেছেন। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীর মানুষ এই রোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরবে এবোলায় মারা যাওয়া ব্যক্তি রোগের লক্ষণ নিয়ে জেদ্দার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি সিয়েরালিয়ন ঘুরে এসেছিলেন। এবোলা এমন এক ধরনের জ্বর যাতে আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৯০ শতাংশের মৃত্যু হতে দেখা গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, মলমূত্র ও অন্যান্য তরল বর্জ্যের মাধ্যমে এবোলা ছড়িয়ে পড়ছে। রোগটির সবচেয়ে বড় ঝুকিঁ হচ্ছে পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত এর কোন সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এর উত্পত্তি হয় গিনির প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এবোলা আক্রান্ত দেশগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার ভারতীয় অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেসব দেশে ভারতীয়দের না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।