ওয়াজিরিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ও সেনাবাহিনীর বিমান হামলা ৩৭ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় সাত জঙ্গি নিহত হয়েছে। গত বুধবার দুইটি মিসাইল হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এদিকে মঙ্গলবার একই অঞ্চলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী চালানো বিমান হামলায় ৩০ জঙ্গি নিহত হয়। ওয়াজিরিস্তানের দাত্তাখেল এলাকায় এ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাছাড়া কাদেরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হল সেটিও স্পষ্ট নয়। বলেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। তবে গত কয়েক বছর ধরেই দ্রোন হামলা নিয়ে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। কেননা পাকিস্তান মনে করে, এর মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঐ এলাকার দাত্তাখেলে “জঙ্গিদের ছয়টি আস্তানা” গুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। গত জুন থেকে উত্তর ওয়জিরিস্তানের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। অভিযান চলাকালে নিজেদের ৩০ সেনা নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। সোমবার একই এলাকার একটু পূর্ব দিকে উজবেক জঙ্গিদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণে ৭ উজবেক ও অন্ততপক্ষে ২ সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। এদিকে অনেকদিন ধরেই এসব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে ন্যাটো ও ইউএসএ’র সেনাবাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও গত বছর ক্ষমতায় আসার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সহিংসতা বন্ধে পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালানোর উদ্যোগ নেন। এসময় কোন ধরনের ড্রোন হামলা না চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকেও অনুরোধ জানান নওয়াজ। তবে দেশটির বন্দর শহর করাচি বিমান বন্দরে জঙ্গিরা হামলা চালালে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায় এবং তখনই তিনি ঐ এলাকায় সেনা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।