বানারীপাড়ায় ভুল চিকিত্সায় স্কুলছাত্রী মৃত্যু পথযাত্রী

বানারীপাড়ায় ডাক্তারের ভুল চিকিত্সায় হাত ও পায়ে পচন ধরে লিমা নামের এক স্কুলছাত্রীর। ইতিমধ্যে তার বাম পায়ের গোড়ালির নিচের অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। পচন ধরেছে অন্য হাত-পায়েও। লিমার আগামী বছর বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ভুল চিকিত্সায় ওই স্কুলছাত্রী এখন মৃত্যুপথযাত্রী হলেও তার কোন খোঁজখবর নেননি অভিযুক্ত ওই চিকিত্সক। প্রভাবশালী হওয়ায় চিকিত্সকের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দও করতে পারছেন না তারা । মৃত্যুপথযাত্রী লিমার পিতা পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কালাম বেপারী জানান- গত ১৩ মার্চ তার কন্যা লিমা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. যতীন চন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধায়নে ভর্তি করা হয়। তাত্ক্ষণিক লিমার শরীরে বিভিন্ন ধরনের ৫টি স্যালাইন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেফালোসপরিন, বারবিট ও ফোর্স নামের তিনটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। ইনে্জকশন পুশ করার ১০ মিনিটের মাথায় তার শরীর ফুলে ওঠে নীল বর্ণের হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ডা. যতীন চন্দ্র রায় লিমাকে রিলিজ দিয়ে বরিশাল সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সদর হাসপাতালে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে ওইদিনই দ্রুত তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়। শেবাচিমে ১৬ দিন চিকিত্সা শেষে চিকিত্সকরা তার একটি পা কেটে ফেলার কথা বলে জানান। তাতে পরিবার অসম্মতি জানালে ২৯ মার্চ তাকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট (এনআইসিবিডি) হাসপাতালে রেফার করা হয়। জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়ার পর ওই দিনই তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি করানো হয়। এখানে তার চার হাত-পা কেটে ফেলার কথা বললে পরিচিত এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে লিমাকে পরে মিরপুর মীম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দীর্ঘ ১৭ দিন চিকিত্সার পর তার হাত-পায়ের পচন কিছুটা কমলেও বাম পায়ের গোড়ালির নিচের অংশ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়। তবে এখনও অপর তিন হাত-পায়ের আঙ্গুল ও নখে পচন ধরা অব্যাহত রয়েছে। পচনের কারণে ওই তিন হাত-পায়ের আঙ্গুল ক্ষয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে সুচিকিত্সা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লিমা নিজ গৃহে দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লিমা ও তার বাবা-মায়ের দু’চোখে অমানিশার ঘোরা অন্ধকার। বাবা কালাম বেপারী জানান, একাধিক চিকিত্সক তাকে বলেছেন, অতিরিক্ত স্যালাইন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করার কারণে রক্ত নষ্ট হয়ে এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত চিকিত্সক যতীন চন্দ্র রায় ক্ষমতাধর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিত্সক ডা. যতীন চন্দ্র রায় বলেন- তার চিকিত্সা সঠিক ছিলো। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত লিমার ব্লাড সাপ্লাই কমে গিয়ে কিডনি ও লিভার আক্রান্ত হয়ে গিয়েছিলো। তবে ইনে্জকশন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ফুলে উঠে নীল বর্ণের হওয়া ও পরবর্তীতে হাত-পায়ে পচন ধরার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এটিএম মিজানুর রহমান বলেন-এ বিষয়ে তিনি কোন অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।