কার্বন নিঃসরণে দায়ী না হয়েও গচ্চা উন্নয়নশীল দেশের

জিডিপির ১ শতাংশ ক্ষতি বাংলাদেশের: পরিকল্পনামন্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ফলে প্রতিবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) এক শতাংশ ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশের জন্য এটি ভয়ানক পরিস্থিতি। জলবায়ু বিষয়ক জাতিসংঘের গবেষণা সংস্থা ইন্টার গভ:মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) বৃহস্পতিবার তাদের ৫ম মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঢাকার একটি হোটেলে এর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খেসারত আমাদের মতো দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় দিতে হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের মূল উপস্থাপনা পেশ করেন ড. জন চার্চ। তিনি এতে উল্লেখ করেন ১৮৮০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত পৃথিবীর স্থলভাগ এবং সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা ০.৬৫-১.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা ০.০৫-০.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীতে ‘এল নিনো’র প্রভাব দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৩-২০১২ এই ত্রিশ বছরে উত্তর গোলার্ধ গত ১৪শ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ধারণ করে। এর ফলে আর্কটিকের বরফ গলা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের উপরিভাগ স্থলভাগের প্রায় সমান উত্তপ্ত হওয়ায় ১৯৭১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত জলবায়ু পদ্ধতির ৯০ ভাগ শক্তি জমা হয়। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড এবং এন্টার্টিকার বরফ যে কোন সময়ের তুলনায় এখন সবচেয়ে বেশি মাত্রায় গলে যাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্র উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯০১-২০১০ সাল পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রের গড় উচ্চতা ০.১৭-০.২১ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে কার্বন নিঃসরণ নিয়ে বলা হয় শিল্প বিপ্লব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ৪০ ভাগের মধ্যে ৩০ ভাগই সমুদ্র শোষণ করে। এর ফলে সমুদ্র দূষণ বাড়ছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।