বায়ার্নের হার ক্ষুব্ধ গার্দিওলা

ক্ষুব্ধ বায়ার্ন কোচ পেপ গার্দিওলা যুক্তরাষ্ট্রের অরিগনে স্বাগতিক এমএলএস অলস্টার দলের কাছে তার তারকা খচিত বায়ার্ন মিউনিখের হারের পর তার প্রতিপক্ষের সাথে হাত মেলাননি। স্পানিশ এ কোচ এর পরিবর্তে বিপক্ষ কোচ চ্যালেব পোর্টারকে এক আঙ্গুল উচিয়ে সম্ভাষণ জানান। গার্দিওলা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের বাছাইকরা দলটির সাথে প্রীতি ম্যাচটিতে জনাকয়েক খেলোয়াড়ের বাজে ফাউলের কারণেই ক্ষুব্ধ হন। জার্মান চ্যাম্পিয়নরা বুধবার রাতের এ খেলায় ২-১ গোলে পরাস্ত হয়। বায়ার্ন কোচ অবশ্য রেফারিদের সাথে প্রতীকিভাবে হাত মিলিয়েই সাজঘরের দিকে চলে যান। পরে যুক্তরাষ্ট্র সকারের সভাপতি সুনিল গুলাতি তার টুইটার বার্তায় অবশ্য দুজনের সাজঘরে ফেরার পথে করমর্দন হয়েছে বলে জানান। মারাত্মক ফাউলের ঘটনায় বায়ার্নের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেবানডোভস্কির প্রথমার্ধেই দেয়া দুর্দান্ত গোলটি ডাকা পড়ে যায়। অতিথিরা এ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বদলি খেলোয়াড় ব্রাডলি রাইট-ফিলিপসও চোখ জুড়ানো এক গোল দিয়ে ৫১ মিনিটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান। এরপর ল্যান্ডন ডনোভান ৭০ মিনিটের সময় ডান পায়ের তীব্র শটে জয় ছিনিয়ে নেন। দুদলের মধ্যকার খেলাটি দ্বিতীয়ার্ধে ন্যক্কারজনক মোড় নেয়। কেননা তখন খেলায় মারাত্মক সব ফাউল দেখা যায়। এমএলএস তারকা অ্যালোনসো হলুদ কার্ড পান। গার্দিওলা দফায় দফায় চতুর্থ রেফারির কাছে যান। এটি ছিল বায়ার্নের প্রাক মৌসুম ষষ্ঠ প্রীতি ম্যাচ যাতে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়রা শুরুতে বেঞ্চে বসেছিলেন। এরপর ৭৯তম মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির চার খেলোয়াড় বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার, ফিলিপ লাম, থমাস ম্যুলার ও মারিও গোটজে একই সাথে মাঠে নামেন। শোয়েনস্টেইগার অবশ্য বিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে খেলাটির শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। গার্দিওলার মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়তো এটি অবদান রেখে থাকতে পারে। তবে বায়ার্নের অন্য সমস্যাও ছিল। তাদের বিশ্বকাপ তারকা আরিয়েন রোবেন, থমাস ম্যুলার, শোয়েনস্টেইগার, ম্যানুয়েল ন্যুয়ার, ফিলিপ লাম ও জেরোমে বোয়েটাং পোর্টল্যান্ডে খেলাটি শুরুর কেবল পাঁচ ঘন্টা আগে এসে দলের সাথে যোগ দেন। ন্যুয়ার গোলপোস্টে কেবল ৩০ মিনিট দাঁড়িয়েছিলেন। অন্যরা খেলেন কেবল ১৫ মিনিট করে। এ প্রসঙ্গে ন্যুয়ের বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের এখানে আসাটা। হতে পারে এই আসাটা বড় মনে নাও হতে পারে। তবে আমি এখানে আসতে পেরে খুশি। কেননা সমর্থকরা আমাদের দেখতে চেয়েছিল এবং আমরা খেলতে পছন্দ করছিলাম।’ ডনোভন পরে এ প্রসঙ্গে ইএসপিএনকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি তিনি চাননি তার খেলোয়াড়রা আঘাত পাক। সেসব যদিও অসাধারণ কোন ট্যাকল ছিল না। কিন্তু সেগুলো আমার চোখে অন্তত এতটা খারাপ ছিল না। আমি আশা করি শুয়েইনি আঘাত পায়নি। আমি নিশ্চিত না কেন তারা এ ব্যাপারে কর্মকর্তাদের কাছে গেল।’ জার্মান ক্লাবটি পরে টুইটারে জানায় যে শুয়েনস্টেইগারের ‘গোড়ালিতে আঘাত লেগেছে। তবে সেটি গুরুতর নয়।’ শেষ পর্যন্ত খেলাটিতে বায়ার্ন পূর্ণ শক্তির দলই নামায়। বিশেষ করে ৮৬ মিনিটে ডাচ তারকা আরিয়েন রোবেন মাঠে নামলে। তবে অল স্টাররা জয়টি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। সুপারস্পোর্ট