চিতলমারীর সবজি চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না

বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। যদিও অধিক ফলন ফলিয়েও চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগী ও স্থানীয় ইজারাদারদের অন্যায্য কর্মকাণ্ডে চাষিরা ফসলের উত্পাদন খরচই ঘরে তুলতে পারছে না। সিডর ও আইলা হামলার পর এমনিতেই এ অঞ্চলের চাষিরা ধার-দেনায় জর্জরিত। তাই অবিলম্বে সরকারি পদক্ষেপ বা সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং না করলে চাষিরা সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিতলমারীতে ১৪৫ হেক্টর জমিতে করল্ল¬া, ৮৫ হেক্টর জমিতে শসা, ঢেঁড়স ৫ হেক্টরে, চালকুমড়া ১৫ হেক্টরে, মিষ্টি কুমড়া ১০ হেক্টরে, বেগুন ২৫ হেক্টরে, বরবটি ৫ হেক্টরে, লাউ ৫ হেক্টরে এবং ৫ হেক্টর জমিতে পুঁই শাকের চাষসহ মোট ৩২৫ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, এর দ্বিগুণ জমিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক সবজি চাষ করেছেন। উপজেলার খাশেরহাট, শ্রীরামপুর, বাখেরগঞ্জ, কুরমনি, সুরশাইল, শৈলদাহ, কালিগঞ্জ, হিজলা, নালুয়া, বড়বাড়িয়া ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মাছের ঘেরের চারপাশে সবজির ব্যাপক ফলন হয়েছে। প্রতিদিনই ব্যবসায়ীরা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ট্রাক নিয়ে তরকারি কিনতে যাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে উত্পাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষকেরা। অন্যদিকে ফড়িয়াদের নির্যাতন তো রয়েছেই। গত বুধবার ভোরে চিতলমারী উপজেলা সদরের বিভিন্ন সবজির গালা (আড়ত) ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ করল্ল¬া ৫৫০-৬৫০ টাকা, শসা ১৭৫-২০০ টাকা, বরবটি ৪০০ টাকা, পুঁই শাক ১২০ টাকা, বেগুন ৭০০-৭৫০ টাকা, কুশি ৩৫০-৪০০ টাকা এবং ঝিঙ্গা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ফড়িয়া ও দালাল জোর করেই চাষিদের সবজির দাম কম দিচ্ছে বলে অসংখ্য চাষি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু তালহা জানান, বাগেরহাট জেলার মধ্যে চিতলমারী উপজেলা সবজি উত্পাদনের একটি বৃহত্ ক্ষেত্র। সরাসরি কৃষি মার্কেট সৃষ্টি, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের অতিরিক্ত মুনাফা আদায় রোধ করতে না পারলে কখনও চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবে না।