রিকশার চাকায় ওড়না জড়িয়ে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু

মা ও বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের বাসা থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় চেপে কলেজের উদ্দেশে রওয়ানা দেন শরিফা আক্তার লীলা (১৬)। হঠাত্ বাতাসের তোড়ে লীলার ওড়না জড়িয়ে যায় অটোরিকশার চাকায়। টান পড়ে গলায়। মুহূর্তের মধ্যে মায়ের কোলে ঢলে পড়েন লীলা। রিকশা থামিয়ে চাকা ও গলায় জড়ানো ওড়না ছাড়ানো হয়। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক লীলাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লালবাগের ঘোড়া শরীফ মাজার গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, লীলার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকালে লীলার মৃতদেহ এলাকায় নেয়া হলে তাকে এক নজর দেখার জন্য সহপাঠী এলাকাবাসী বাসায় ভিড় করে। মেয়ের শোকে বাকরুদ্ধ লীলার মা রাবেবা বেগম। আজিমপুর গার্লস কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী লীলা। বাসা কামরাঙ্গীরচরের সরকারবাড়ি এলাকায়। গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার জাজিরা। এক ভাই দু’বোনের মধ্যে লীলা সবার বড়। বাবা আব্দুল হালিম পেশায় নৌকা চালক। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লীলার বান্ধবী ইতি জানান, তারা দুইজন একই সঙ্গে কলেজে আসা-যাওয়া করেন। ঈদের ছুটির পর গতকালই কলেজ খুলেছে। সকাল ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে অটোরিকশায় ওঠেন ইতি, ইতির বড় বোন, লীলা এবং তার মাসহ চারজন। রাস্তা ফাঁকা থাকায় দ্রুত গতিতে চলছিল রিকশাটি। পেছনের সিটে বসা ছিল লীলা। কিছু বুছে ওঠার আগেই লীলা জ্ঞান হারিয়ে তার মায়ের কোলে ঢলে পড়েন। লীলার বাবা আব্দুল হালিম মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, আমি দিন মজুর। নৌকা চালাই। বহু কষ্টে মেয়েকে পড়াচ্ছিলাম। কিন্তু এমনটি হবে কল্পনাও করিনি। এ মৃত্যুর জন্য কাকে দোষ দেব। সবই আমার কপাল। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই মেয়ের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে নিয়ে যান।