জিএসপি নয় কারখানার উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধিই মুখ্য

 বাংলাদেশকে নিজের কৌশল অনুযায়ীই এগিয়ে যেতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি উত্পাদন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখাকে প্রাধান্য দিতে হবে  জিএসপি, জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকারমূলক সাধারণীকৃত পদ্ধতি। যার সহজ অর্থ হচ্ছে, প্রায় শুল্কমুক্তভাবে পণ্য রপ্তানি সুবিধা। উন্নত বিশ্ব স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের রপ্তানিযোগ্য পণ্যে এই সুবিধা দেয়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)’র নীতিতেও জিএসপি প্রদানের সুযোগ রয়েছে। জিএসপির ধারণা পূর্ণ রূপ পায় ১৯৬৮ সালে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা, আংটার্ড সম্মেলনের মাধ্যমে। তখন ডব্লিউটিওর অগ্রজ গ্যাট বা শুল্ক ও বাণিজ্য বিষয়ক সাধারণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। যা শুরু হয় ১৯৪৮ সালে। উরুগুয়ে রাউন্ডসহ আট দফা আলোচনা শেষে ১৯৯৪ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে এ আলোচনা শেষ হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্যাটের সদস্যরা ১৯৭১ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ১০ বছরের জন্য জিএসপি সুবিধা দিতে সম্মত হয়। ১৯৭৯ সালে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য চালু হয়। এটি পশ্চিমা বিশ্বের আবিষ্কৃত বহু তত্ত্বের একটি। যেমন: তাদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার “ইনক্লুসিভ গ্রোথ” বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি যা স্বল্প, মধ্য ও বৃহত্ আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করে। অধিকাংশ স্বল্পোন্নত দেশ ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত কৃষি ও খনিজ কাঁচামাল রপ্তানি করতো। বাংলাদেশের ছিল পাট, পাটজাত পণ্য ও চা। তাই উন্নয়নশীল বিশ্বের এগিয়ে থাকা কয়েকটি দেশ জিএসপি সুবিধা ভোগ করেছে। এদিকে এলডিসিগুলো জিএসপি সুবিধা পাওয়ার সামর্থ্য অর্জনে মনোযোগী হয়। বাংলাদেশ কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করে তা রপ্তানি করার পথ বেছে নেয়। এতে বাংলাদেশ সফল হয়। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই বাংলাদেশ জিএসপির আওতায় ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু করে। এর ফলে জিএসপি সুবিধার প্রায় পুরোটাই এলডিসিগুলো ভোগ করার সুযোগ পায়। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে এ সুবিধার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে। ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৮৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। ২০০০-০১ অর্থবছরে তা ৪৮৬ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ১৯৯৫ সালের পর থেকে জিএসপি নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি পাওয়ার শর্ত বার বার পরিবর্তন করেছে। জিএসপি বন্ধ করেছে। আবার চালু করেছে। পণ্য সংখ্যা কমিয়েছে। বলা হয়েছে, টেক্সটাইল ও কৃষিপণ্যে জিএসপি পাওয়া যাবে না। কারণ, এ দুটোতেই গ্যাটের মূল নিয়ন্তা শিল্পোন্নত বিশ্বের স্বার্থ জড়িত আছে। এখন পর্যন্ত একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নই “অস্ত্র বাদে সবকিছু” কর্মসূচির আওতায় স্বল্পোন্নত দেশের সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশকে ১৯৯৫ থেকে প্রায় দুই দশকে রপ্তানি বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি নিয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলো ও দাতা সংস্থাগুলোর কূট-কৌশল, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মেরুকরণ, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর বাড়াবাড়ি সবই মোকাবেলা করতে হয়েছে। ফলে প্রতিবছরই তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা ১ হাজার ৭৯২ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। একদশকে পোশাক রপ্তানি প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ গুণ বেড়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৩৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত তিন বছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। এ কারণেও বাংলাদেশের পোশাক খাত অনেক দেশ ও সংস্থার টার্গেটে পরিণত হয়েছে। গ্যাট আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিএসপি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য সব দেশকে বৈষম্যহীন ও একমুখীভাবে তা দেয়ার কথা। বাস্তবে এটি মানা হচ্ছে না, বাংলাদেশই এর বড় প্রমাণ। তবে জিএসপিকে ঢাল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তা করতে গিয়ে তারা একেক দেশের বিরুদ্ধে একেক অজুহাত দেখিয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কারখানায় নিরাপত্তাহীনতা এবং শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেয়া, ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট দেশ, লিবিয়া সন্ত্রাসী দেশ, উজবেকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসম্পদ আইন প্রতিপালনে ব্যর্থ ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে এসব দেশে জিএসপি স্থগিত করেছে। তবে বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করার কৌশলটি অভিনব। রানা প্লাজা ধসের কারণে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু, স্বঘোষিত শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যা, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেয়া এসব ঘটনাই পোশাক খাতকে ঘিরে। বাংলাদেশের এ ব্যর্থতার দায়ে জিএসপি বন্ধ করতে হলে তা পোশাক খাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যদিও জিএসপি নীতিতে সেই সুযোগ নেই। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০১৩ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশকে জিএসপি স্থগিতের যে নির্দেশ দিলেন তা প্রয়োগ করা হলো তামাক, খেলার সামগ্রী, চায়না তৈজসপত্র ও প্লাস্টিক পণ্যে। যেগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি সামর্থ্য খুবই কম। গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসব পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে মাত্র সাড়ে তিন কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় একদশক ধরেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে জিএসপি দেয় না। দেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা বিশ্ববাজারের সাথে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা করে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করছে। তারপরও প্রতিবছর এই রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০০০-০১ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ২২০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৬৩ কোটি ডলার। একদশকে রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫২৫ কোটি ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। ওবামা প্রশাসনের অসহযোগিতা ও পরোক্ষ বাধা সত্ত্বেও রপ্তানি বাড়ার পিছনে কাজ করেছে দেশটির শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো। সেখানে সরকার কোনো আমদানিকারককে কোনো দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে বাধা দেয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা সস্তায় পোশাক সরবরাহ করতে পারছেন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বায়াররা তা ক্রয় করছেন। বাণিজ্য অবরোধ করতে হলে কংগ্রেসে তা পাস করিয়ে নিতে হয়। সেখানে এখন প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্রেটিক পার্টি সংখ্যালঘু। সিনেটেও এককভাবে বিল পাস করিয়ে নেয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিতের সময় তা প্রত্যাহারের জন্য ১৬টি করণীয় সম্বলিত কর্ম পরিকল্পনা দেয়। সরকার বলেছে, ১৬টির মধ্যে ১৩টি পূরণ করা হয়েছে। অপর তিনটির মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে- ইপিজেডসহ সব পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধন করেছে। ১৫০টিরও বেশি শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধন দিয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। আইনটি প্রণয়নের পর কারখানার নিয়মিত শ্রমিকরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করতে পারবে। যারা মালিকদের সাথে যৌথ দর কষাকষির সুযোগ পাবে। এর মধ্যদিয়ে ১৯৯৯ সাল থেকে করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবি পূরণ হলো। আসলে এ দাবিটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহত্ শ্রমিক ফেডারেশন, ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক এএফএল-সিআইওর। কারণ, বাংলাদেশ সস্তায় পোশাক দিতে পারে বিধায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সটাইল খাত মার খাচ্ছে। তাদের শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের রপ্তানি সামর্থ্য কমাতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে: কারখানা ভবনের মান নির্ধারণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলো বন্ধ করা বা সংস্কার করা, শ্রমিকদের কর্ম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি কারখানায় আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি সাধন করেছে। তবে এখনও পর্যাপ্ত পরিদর্শক নিয়োগ দিতে পারেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের সংগঠন “অ্যাকর্ড” এবং উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সংগঠন “অ্যালায়েন্স”, আইএলও এবং বিজিএমইএ যৌথভাবে এ পর্যন্ত দেড় হাজার কারখানা পরিদর্শন করেছে। ১৯টি কারখানায় ত্রুটি পাওয়া গেছে। ৮টিকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব কারখানা পরিদর্শন শেষ হবে। প্রতিটি কারখানায় আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপন করা কঠিন কাজ। কারণ, এটি ব্যয়বহুল। ছোট ছোট কারখানার মালিকরা এজন্য কিছুটা সময় নিচ্ছেন। তারা ক্রেতা ও সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন। তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা। কারখানার উত্পাদনশীলতার মূলে আছে শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক। অনেক মালিক ও বহু শ্রমিকই এ বিষয়ে ঘাটতি আছে। এর জন্য বেশি দায়ী আমাদের অভ্যাস। শ্রমিকরা কথায় কথায় কারখানা ভাঙচুর করে, উত্পাদন বন্ধ করে দেয়। আবার মালিকরা পছন্দ না হলে বা ছোটখাট অপরাধে শ্রমিক ছাঁটাই করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন রাতারাতি হবে না। এজন্য শ্রমিক ও মালিককে ভদ্র আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে। ধৈর্যশীল ও পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। শোনা যায়, কারখানার উত্পাদন পরিবেশ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই গোষ্ঠী কারখানায় অসন্তোষ সৃষ্টিতে ভাড়াটে শ্রমিক ব্যবহার করে। গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের উত্তেজিত করে। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি ও দলগত ক্ষোভ ও লোভ-লালসাকে প্রাধান্য দেয়। এর উদাহরণও আছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের এক অখ্যাত শ্রমিক সংগঠন “ইন্ডাস্ট্রিঅল” যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের কাছে পত্র দিয়েছে যে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা মারাত্মক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্যমন্ত্রী এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যান প্রধানমন্ত্রীকে পত্র দিয়ে শ্রমিক নেতাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কোনোকিছু প্রত্যক্ষ না করে উড়োচিঠির ওপর নির্ভর করে সরকার প্রধানের কাছে এ ধরনের অভিযোগ পেশ অবশ্যই অশোভন ও নিন্দনীয় কাজ। শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশোধিত শ্রম আইনে এর শক্ত প্রতিকার আছে। শিল্প এলাকায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আছে। শ্রমিক নির্যাতিত হলে তার প্রতিকারের বিধান আছে। আশার কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির অফিস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তারা বলেছে, উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে আরও কাজ করতে হবে। সব দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি কর্মসূচির আইনগত বৈধতার মেয়াদ ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এটি আবার কার্যকর করতে হলে জিএসপি নবায়ন বিল কংগ্রেসে পাস করতে হবে। ওবামা প্রশাসন আশা করছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিলটি পাস হবে। আগামী নভেম্বরে সিনেটের মধ্যবর্তী নির্বাচন। অধিকাংশ এলাকাতেই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা অসুবিধায় আছেন। তাই কংগ্রেসে জিএসপি নবায়ন বিল উত্থাপন করে ওবামা প্রশাসন নতুন বিতর্কের ঝুঁকি নাও নিতে পারে। এই নবায়ন না হলে বাংলাদেশ সব শর্ত পূরণ করলেও জিএসপি পাবে না। তাই বাংলাদেশকে নিজের কৌশল অনুযায়ীই এগিয়ে যেতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি উত্পাদন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখাকে প্রাধান্য দিতে হবে।