‘কৃষক বাজার’ এক নতুন দিগন্তের সূচনা
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২১
কৃষিপণ্য উত্পাদনকারী এবং ভোক্তাদের মাঝে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের দিকে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন উত্সাহী ব্যক্তি ‘কৃষক বাজার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রাথমিক অবস্থায় এর কার্যক্রম সীমিত পর্যায়ে ছিল। পরবর্তীতে এর কার্যক্রম বিশাল আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনকারীদের পণ্যসামগ্রী সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ‘কৃষক বাজার’।
‘কৃষক বাজার’ নামের প্রতিষ্ঠানটি সৃষ্টির পেছনে মেজর (অব.) মোহাম্মদ সোলাইমান, মোহাম্মদ কামালউদ্দীন, ড. সাবজালউদ্দীন, কাজী শাহাদাত হোসেন, রোকেয়া রহমান রিপু, জাহানারা আরজুসহ আরো অনেকের বিশেষ অবদান রয়েছে। ‘কৃষক বাজারের’ মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. সাবজালউদ্দীন বলেন, বর্তমানে বাজারে সব ধরনের ফলমূল, তরি-তরকারী, মাছ, মাংস, দুধে বিষাক্ত ফরমালিন অবাধে ব্যবহূত হচ্ছে। বিষাক্ত ফরমালিন মানবদেহে নানা রোগের সৃষ্টি করছে। ভোক্তারা বাধ্য হচ্ছেন বাজার থেকে ফরমালিনযুক্ত পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে।
তাছাড়া কৃষিজাত পণ্য উত্পাদন ক্ষেত্র থেকে ভোক্তাদের কাছে আসতে আসতে কয়েকদফা বেচাকেনা হয়। ভোক্তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী যেসব পণ্যসামগ্রী পায় সেগুলোর গুণগতমান বজায় থাকে না। অনেকদিনের পচাবাসী সামগ্রী ক্রয় করতে হয়। শুধু তাই নয়, এসব পণ্যসামগ্রী ক্রেতাদের বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আমরা ভোক্তা বা ক্রেতা সাধারণের কথা বিবেচনা করে সরাসরি উত্পাদনস্থল থেকে সংগ্রহ করে ‘কৃষক বাজারের’ মাধ্যমে সুলভ মূল্যে তরতাজা বিষমুক্ত কৃষিজাত পণ্যসামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। ‘কৃষক বাজার’ কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনকারী এবং ভোক্তাদের মাঝে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করে চমক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুর এলাকায় ‘কৃষক বাজারের’ প্রশিক্ষণ, বিক্রয় এবং প্রদর্শন কেন্দ্র রয়েছে। এখান থেকে পুরো চট্টগ্রাম শহরে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। ‘কৃষক বাজারের’ ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে কামালউদ্দীন বলেন, ভোক্তারা যাতে সহজে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যসামগ্রী পেতে পারে সে লক্ষ্যে কৃষিজাত পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক হিমাগার নির্মাণ, উত্পাদনকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, বিষমুক্ত খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভোক্তাদের নিয়ে সেমিনার করা। ‘কৃষক বাজার’ যে মহত্ উদ্যোগ নিয়েছে তার সফলতা কামনা করছি। এই উদ্যোগ যেনো মাঝপথে বন্ধ না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।