নীলফামারীর নারী শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার

পুরুষের সমান কাজ করলেও পারিশ্রমিক অর্ধেক নীলফামারী জেলায় দিন দিন কৃষি শ্রমিক হিসেবে নারী শ্রমিকরা জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। শুধু কৃষি নয়- নির্মাণ, গৃহস্থালি, বিভিন্ন ধরনের মিল-কারখানাসহ সব অঙ্গনে রয়েছে তাদের নিরলস পদচারণা। জীবিকার তাগিদে জীবনের সঙ্গে তারা যুদ্ধ করছেন নিরন্তর। তারা কেউ চাতালে ধান শুকানো, কিংবা চাল তৈরির কাজ করেন। আবার কেউ মাটি কাটেন কিংবা ইট ভাঙেন। এত পরিশ্রমের পরও নারীরা কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, একজন পুরুষ কৃষি শ্রমিক যেখানে দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান সেখানে একজন নারী শ্রমিক পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। চাতালের নারী শ্রমিকদের হাজিরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর একজন পাথর ভাঙা শ্রমিক দিনে গড়ে ১০ ঘনফুট পাথর ভেঙে আয় করতে পারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এ টাকা দিয়েই তাদের সংসার চালাতে হয়। তারা শিক্ষা, চিকিত্সা, সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। সমাজে বেঁচে আছে অবহেলিত হয়ে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে হারিয়ে গেছে এদের স্বপ্ন-সাধ। একই কাজ করে পুরুষরা তাদের চেয়ে দ্বিগুণ মজুরি পাচ্ছেন। নামমাত্র মজুরি, তাও কাজ না পাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস নেই নারীদের। কারণ এসব নারী শ্রমিক কেউ বিধবা, কেউ বা স্বামী পরিত্যক্তা। আবার কেউ বা অধিক সন্তানের ভারে নিতান্তই অভাবের তাড়নায় অত্যন্ত কম দামে তাদের শ্রম বিকিয়ে চলেছেন। নারী শ্রমিকরা জানান, নিতান্তই পেটের তাগিদে তারা বিভিন্ন কাজের শ্রমিক হয়েছেন। কাজ হারানোর ভয়ে পারিশ্রমিক বাড়ানোর কথা মালিককে তারা বলতে পারেন না। এ অঞ্চলের বাস্তবতা হলো- অধিকাংশ নারী শ্রমিকের বসবাস করার মতো নিজের জায়গাও নেই। অন্যের জমিতে ঘর করে কোনোমতে দিন কাটান তারা। অনেকের সন্তান থাকলেও সে সন্তানরা বড় হয়ে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। এখন তাদের দেখার কেউ নেই। ছেলে-মেয়েদের ভরণ-পোষণ ও নিজের জীবন বাঁচাতেই তারা অনেক কঠিন কাজ বেছে নেন। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা তাদের দেখেন না। তারা পুরুষের সমান কাজ করলেও কেউ তাদের মজুরি বাড়ানোর কথা বলে না। নীলফামারী জেলায় এরকম হাজারও নারী শ্রমিক সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।