ছায়ানটে চিরঞ্জীব রবীন্দ্র স্মরণ
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৬
কথামালা, নৃত্য ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে ৭৩তম প্রয়াণ দিবসে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। গতকাল সন্ধ্যায় ছায়ানট সংস্কৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রবির সুরে আর নৃত্যে কবিগুরুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা।
এবারের অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেন সবারই একটা বাড়তি আগ্রহ। তার কারণও রয়েছে। ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন এবার অনুষ্ঠানে ছিলেন পুরোটা সময়। তিনি গান গেয়েই শুরু করলেন অনুষ্ঠান। শেষেও তার গান। অনুষ্ঠানে আসা দর্শকরাও যেন আপ্লুত। এ প্রজন্মের কারো তো সন্জীদা খাতুনের কণ্ঠের গান শোনার সৌভাগ্য হয়নি এর আগে। তাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়েই পুরো অনুষ্ঠান শুনলেন, উপভোগ করলেন দর্শক-শ্রোতা।সংগঠনের সভাপতি সন্জীদা খাতুনের কণ্ঠে ‘মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিগুরুর স্মরণের এই আয়োজন।
সন্জীদা খাতুনের পর অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা। এ পর্যায়ে তারা পরিবেশন করে সম্মেলক গান শুন লো শুন লো বালিকা’। এরপর একে একে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সৈকত মুখার্জী, মো. সিফায়েত উল্লাহ, আজিজুর রহমান তুহিন, এটিএম জাহাঙ্গীর, আব্দুল ওয়াদুদ, ফাহমিদা খাতুন, তানিয়া মান্নান ও সন্জীদা খাতুন। একক নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব।
সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে রবীন্দ্রনাথ স্মরণ। অনুষ্ঠানে প্রতিটি গানের পরিবেশনার আগে গানটি সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন।
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার ‘তবু মনে রেখো’
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৩তম প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘তবু মনে রেখো’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্রসঙ্গীত উত্সব। রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টি কাব্যিক ব্যঞ্জনার অমৃত সুরের ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে গতকাল বিকালে পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মতি মিলনায়তনে শুরু হয় দুুইদিনব্যাপী এই উত্সব। সংস্থার শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উত্সবের সূচনা ঘটে। এরপর শিল্পীরা দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ ও ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে’। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর কবি গুরুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আকবর।
এরপর প্রথম দিনের আয়োজনে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন আহমেদ মায়া আখতারী, আমিনা আহমেদ, সালমা আকবর, সেলিনা হুদা সীমা, বুলা মাহমুদ, ইন্দ্রানী কর্মকার, ছায়া কর্মকার, মিরা মন্ডল, অলি ভৌমিক, রাইয়ান খালিদ চন্দ্রা, তনুশ্রী ভট্টাচার্য, তানজিমা তমা, সুমাইয়া ইমাম ইমা, সুস্মিতা মন্ডল, শিমু দে, শারমিন আহমেদ লিপি, সেলিনা পারভেজ, রানু কর্মকার, সন্ধ্যা ভট্টাচার্য, শ্রাবণী চক্রবর্তী, অনিমা রায়, অনিন্দিতা রায়, অঁখি বৈদ্য, আহমেদ শাকিল হাশমি, অনিকেত আচার্য, আজিজুর রহমান তুহিন, অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত, চঞ্চল খান, গোলাম হায়দার, হিমাদ্রি শেখর, ইমরানুল হক, খোকন চন্দ্র দাশ, মো.ফারুক, মো.আসিফুল বারী, মৃদুল চক্রবর্তী, মিজানুর রহমান, প্রমথ দত্ত, সত্য চক্রবর্তী, তপন কুমার সরকার, শাহজাহান কামাল, শফিকুর রহমান খান, পাবক দীপ্র ও টিপু চৌধুরী। আজ শেষ হবে দুইদিনব্যাপী উত্সব।