দেশে ইবোলা ভাইরাস সনাক্ত করার ব্যবস্থা নেই
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৩
বিশ্বব্যাপী মারাত্মক ঘাতক ইবোলা ভাইরাস আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের এখনও পর্যন্ত কোনো তত্পরতা নেই। এই প্রাণঘাতী ‘ইবোলা ভাইরাস’ সনাক্ত করার কোনো ধরনের ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই দেশে। এমনকি এই ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করারও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ আফ্রিকার যে সব দেশে এই ঘাতক ভাইরাসটি প্রায় হাজার জীবন কেড়ে নিয়েছে সে সব দেশে বাংলাদেশের সেনা ও অন্য বাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীরা কর্মরত আছেন। এছাড়া অনেকেই প্রাণভয়ে আফ্রিকার ইবোলা উপদ্রুত অঞ্চল থেকে দেশে ফিরছেন। এ কারণেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি সম্পর্কে জানা এবং এর প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা দুই দিনের বৈঠক শেষে গতকাল শুক্রবার এই সতর্কতা জারি করেন। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে।
ইবোলা ভাইরাসের ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন মহাখালীস্থ রোগতত্ত্ব প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা: মুশতাক আহমদ ইত্তেফাককে জানান, শীঘ্রই ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে তারা একটি সভা করার উদ্যোগ নেবেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে মাসাধিককালের মধ্যে দেশে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সনাক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই মুহূর্তে দেশে ইবোলা ভাইরাস সনাক্ত করার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য বিভাগের করণীয় কিছুই নেই।
ইতিমধ্যেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি লাইবেরিয়া, সিয়েরালিওন, নাইজেরিয়া, গিনিসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে আঘাত হেনেছে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পনের সহস্রাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন এবং তন্মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ৯ শতাধিক লোকের। এই ঘাতক ভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে সুদান ও কঙ্গোতে। তখন দেশ দুটিতে আক্রান্ত ৬০২ জনের মধ্যে ৪৬১ জনের মৃত্যু ঘটে। এরপর ১৯৯৫ সালে কঙ্গোতে, ২০০০ সালে উগান্ডায়, ২০০৭ সালে কঙ্গো ও উগান্ডায় এবং ২০১৪ সালে সিয়েরালিওন, গিনি, লাইবেরিয়া ও নাইজেরিয়ায় মোট আক্রান্ত প্রায় পনের হাজার এবং মৃত্যু ঘটেছে ৯ শতাধিক লোকের। সেনা সদর দফতর জানিয়েছে, লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওনসহ যেসব দেশে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী আছে তারা সবাই ভাল আছেন। তাদের কারো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আশার কথা হলো, রোগটি ফ্লু ও অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগের মত ছড়ায় না, আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে না আসলে রোগটি সংক্রমিত হবার ভয় নেই। ইবোলা আক্রান্তদের উপসর্গ বা রোগের লক্ষণ খানিকটা ফ্লু আক্রান্তদের মত। তীব্র মাথা ব্যথা, জ্বর, শরীর ব্যথা, ত্বকে র্যাশ বা দানা দানা উঠা এবং ক্ষেত্রবিশেষ ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে। আর ভয়াবহ ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার, কিডনি, হার্ট অকেজো করে দেয়ার মত ক্ষমতাধর। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানীরা এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি। নেই কোনো কার্যকর ওষুধও।
ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিত্সার যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন-এর (সিডিসি) প্রধান ড: থমাস ফ্রাইডেন ইবোলা ড্রাগ নিয়ে অতি আশা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। অতি সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছেন এমন একজন চিকিত্সক জানান, আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্ত দেশসমূহে বাংলাদেশিরা উদ্বিগ্ন। তাই এই মুহূর্তে ইবোলা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার সিয়েরালিওনের সরকারি মুখপাত্র জানান, দেশের বিভিন্ন নাইট ক্লাব ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আফ্রিকার জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটির বেসরকারি খাতের চিকিত্সকরা তাদের মাসব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা স্থগিত করেছেন।