এসএসসি ও জেএসসি গণিত সৃজনশীল
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৪১
যেভাবে তৈরি করা হয় রচনামূলক প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন সরকার, পরীক্ষক
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা
শিক্ষক (গণিত)
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীসহ সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা। ২০১৫ সালে এসএসসি ও ২০১৪ সালে জেএসসি পরীক্ষার্থীরা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। ২০১৫ সাল হতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের গণিত ও উচ্চতর গণিতে প্রথম সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। আর জেএসসি পরীক্ষার্থীরা এ বছর থেকেই গণিতে প্রথম সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নের উত্তর করবে। এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের যেনো উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার শেষ নেই। তাই আজ থেকে আমরা গণিত ও উচ্চতর গণিত সৃজনশীল (রচনামূলক) প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন যেভাবে তৈরি করা হয় তা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে চিন্তন দক্ষতার বিভিন্ন স্তরের (জ্ঞান বা স্মরণ করা, অনুধাবন বা বুঝতে পারা, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ বা সৃষ্টি করা ও মূল্যায়ন) প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখিত ৬টি দক্ষতার স্তরকে চারটি দক্ষতা স্তরে (জ্ঞান স্তর, অনুধাবন স্তর, প্রয়োগ স্তর ও উচ্চতর চিস্তন দক্ষতা স্তর) বিন্যাস করা হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এই চারটি স্তরের বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গণিত ও উচ্চতর গণিত শিক্ষাক্রম প্রায়োগিক দিকটির উপর গুরুত্বারোপ করেছে। গণিত ও উচ্চতর গণিতের Test Item গুলো তৈরি করার সময় এই প্রায়োগিক দিকের উপরই আলোকপাত করা হয়েছে। গণিতে এই প্রায়োগিক দিককে গুরুত্ব দিয়ে এবং সবল ও দুর্বল শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার লক্ষে গণিতের Itemগুলোকে কাঠিন্যের (Difficult Level) তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। কাঠিন্যের এই স্তর নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিন্তার গভীরতা/বহুমাত্রিকতা, Time এবং Stepping বিবেচনা করা হয়। কাঠিন্যের স্তর সমূহ হচ্ছে- সহজ, মধ্যম ও কঠিন।
সহজঃ এই স্তরের প্রশ্ন হবে সহজ। অর্থাত্ সাধারণ বা বিশেষ কোন তত্ত্ব, তথ্য, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, ধারণা, এবং নীতিমালা ইত্যাদি চিনতে পারার দক্ষতা এই স্তরে যাচাই করা হয়। MCQ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্যে একজন শিক্ষার্থী ১০ সেকেন্ড থেকে ৪০ সেকেন্ড সময় ও সৃজনশীল প্রশ্নে ১ থেকে ৩ মিনিট সময় ব্যয় করে শিক্ষার্থী এই অংশের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবে।
মধ্যমঃ এই স্তরের প্রশ্নসমূহে কোন তথ্য, নীতিমালা, সূত্র, নিয়ম, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, ইত্যাদি নতুন পরিস্থিতির আলোকে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। শিক্ষার্থীর পূর্বে শেখা বিষয়কে (কোন তথ্য, নীতিমালা, সূত্র, নিয়ম, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, ইত্যাদি) অপরিচিত কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার দক্ষতা এই স্তরের প্রশ্নের মাধামে দেখা হয়। এই স্তরের উত্তর দেয়ার জন্যে শিক্ষার্থীকে চিন্তার গভীরতা/বহুমাত্রিকতা সহজ স্তরের চেয়ে বেশি হবে। MCQ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্যে একজন শিক্ষার্থী ৪০ সেকেন্ড থেকে ৬০ সেকেন্ড সময় ও সৃজনশীল প্রশ্নে ৬ থেকে ৮ মিনিট সময় ব্যয় করে শিক্ষার্থী এই অংশের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে।
কঠিনঃ কাঠিন্যের স্তর এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হবে। অর্থাত্, এই অংশের উত্তর দেওয়ার জন্যে একজন শিক্ষার্থীকে চিন্তার গভীরতা/বহুমাত্রিকতা দ্বিতীয় অংশের চেয়ে বেশি হবে। এই স্তরের প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী যেনো পঠিত তথ্য, নীতিমালা, সূত্র, নিয়ম, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, ইত্যাদি নতুন পরিস্থিতির আলোকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার সুযোগ পায় তা লক্ষ্য রাখা হয়। MCQ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যে একজন শিক্ষার্থী ৬০ সেকেন্ড থেকে ৯০ সেকেন্ড সময় ও সৃজনশীল প্রশ্নে ৯ থেকে ১১ মিনিট সময় ব্যয় করে শিক্ষার্থী এই অংশের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে।
আগামীকাল থাকবে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের গঠন কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য