কমলগঞ্জে ঢাক ঢোল বাজিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ

‘বালা হই রে হই’ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় এ রকম জারি, সারি আর ভাটিয়ালী গানে উত্ফুল্ল কৃষক আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে ৩ ঘণ্টায় উপজেলার শমশেরনগর আংটিয়া এলাকায় প্রায় ৫ কিয়ার জমিতে আমন চারা রোপণ করেন কৃষক। শুক্রবার বিকালে কৃষকের ঢোল, বাদ্যযন্ত্রে সরগরম মাঠ শিশু কিশোর ও কৃষকের মিলন মেলায় পরিণত হয়। বাংলার ঐতিহ্য জারি, সারি, ভাটিয়ালী গান গেয়ে কৃষক ও মাঝিমাল্লা কাজের যে স্পৃহা সৃষ্টি করতেন সেই দিনগুলি এখন ফুরিয়ে যেতে বসলেও আবারও যেন কৃষকের মাঠে এচিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে। শমশেরনগরের কৃষক জুবের আহমেদ জমি বর্গা নিয়ে প্রযুক্তির এই যুগে পুরনো দিনের সেই আনন্দটাই ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন। জুবের জানান, বিগত বছরেও তিনি এভাবে সবাইকে নিয়ে গান বাজনার মধ্য দিয়ে জমিতে চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন করেন। জুবের আহমদ জানান, কাজের মাঝেও মূলতঃ একযোগে সবাই মিলে সেই আনন্দ উপভোগ করতে এ আয়োজন। তিনি আরও বলেন, এখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাসি জবাই করে বিরিয়ানি তৈরি করা হয় এবং সবাই মিলে একসাথে ভূরিভোজ করেন। এছাড়াও শ্রমিক হিসাবে যারা এখানে কাজ করেন তাদের জন্য একটি সম্মানীও প্রদান করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের অতীত ঐতিহ্য জারি, সারি, ভাটিয়ালী গান মূলত কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হলেও মনে দাগ কাটবে। এভাবে গ্রামগঞ্জের প্রতিটি অঞ্চলে ভাল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। নেত্রকোণায় আমন আবাদের ধুম নেত্রকোণা প্রতিনিধি নেত্রকোণা জেলার সর্বত্র গত তিনদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়াতে জেলার সর্বত্র আমন চারা লাগানোর ধুম পড়ে গেছে। কৃষকরা গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেকটা আগাম আমনের আবাদ করতে পারছেন। প্রথম দিকে কৃত্রিম সেচ দিতে হলেও এখন তা দিতে হচ্ছে না। এছাড়া এবার বীজতলা তৈরিতে বীজের যেমন অভাব হয়নি, তেমনি এখনও পর্যাপ্ত আমন চারা পাওয়া যাচ্ছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। নেত্রকোণা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে এবার জেলার দশ উপজেলায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮৮ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে উফশী এবং ৪২ হাজার ৩১ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদ করা হচ্ছে। এই পরিমাণ জমিতে চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় আমনের আবাদ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে। ঝিনাইগাতীতে খরায় আমন রোপণ ব্যাহত ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রচণ্ড খরায় আমন রোপণ ব্যাহত হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভর-মৌসুমেও বৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে এ উপজেলার কৃষকরা আমন মৌসুমে ইরি-বোরো মৌসুমের ন্যায় জমিতে সেচ দিয়ে আমন চারা রোপণ করছেন। বৃষ্টির অভাবে প্রচণ্ড খরায় রোপণকৃত শত-শত একর জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। লক্ষ্যমাত্রার ৬০ ভাগ জমিতে আমন রোপণ করা হলেও খরার কারণে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কোরবান আলী ও কৃষকদের সাথে কথা হলে খরায় আমন চারা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হাতে সময় আছে বৃষ্টি হলে তা পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পাঁচবিবিতে সেচের মাধ্যমে ধান রোপণ শুরু পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির কৃষকরা অবশেষে সেচের মাধ্যমে আমন রোপণ করতে শুরু করেছে। ইতিপূর্বে বৃষ্টির পানিতে যারা আমন রোপণ করেছিল সেগুলি পানির অভাব এবং প্রচণ্ড রোদের কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন ধানের জমি খরার কারণে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। শ্রাবণ মাস শেষের দিকে, বৃষ্টির অভাবে ধান প্রধান পাঁচবিবি উপজেলায় প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ করা সম্ভব হয়নি। কৃষকরা বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে হতাশ হয়ে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধান রোপণ করতে শুরু করেছে। বোরো অপেক্ষা কম ফলনশীল ধান আমন সেচের মাধ্যমে চাষ করে লোকসান হওয়ার আশংকায় ভুগছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকরা সেচ দিয়ে রোপা আবাদ করলেও লোকসান হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।